অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৯, | ২১:৫৩:৩২ |

অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল টাইগাররা। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়। এর আগে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অসিদের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। 

বিশ্বকাপে রেকর্ড ছয়বারের শিরোপাজয়ী অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত সর্বোচ্চ ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। এছাড়া ৬৭ ও ৫৪ রান করে করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান করে। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা না হওয়ায় বাংলাদেশ ডিএলমেথডে ৮৬ রানে জয় লাভ করে।

এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের ৫ আগস্টের পর ওয়ানডে খেলতে নেমে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মোসাদ্দেক ৭০ বলে ৭টি চার আর ৩টি ছক্কার সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ৮৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। তার বিধংসী ইনিংসের সুবাদে লড়াকু পুঁজি পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।

এছাড়া ৮৬ বলে ৯টি চার আর এক ছক্কার সাহায্যে ৬৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪৪ বলে ৭টি চার আর এক ছক্কায় ৫৪ রান করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন নাথান ইলস।  

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। অসি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ। তার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথিউ শর্ট। তিনি গোল্ডেন ডাক মারেন। ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হয়ে ফেরেন তিনি।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে দ্বিতীয় বলেই ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নামা মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান কাটারমাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ক্রিকেটার লাবুশেন।

১০.১ ওভারে দলীয় ৫১ রানে ফেরেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। তিনি নাহিদ রানার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন। তার আগে ২৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে করেন ১৯ রান।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে ইনিংসের শুরু থেকে হাল ধরে রাখার চেষ্টা করেন কুপার কনোলি। তিনি দলীয় ৯১ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ৫০ বলে ৫টি চার আর এক ছক্কায় ৩৫ রান করেন।

পঞ্চম উইকেটে ৩৭ রান জমা করেন অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন। তাদের কারণে একটা পর্যায়ে ৪ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ১২৮ রান। এরপর মাত্র ২৮ রানের ব্যবধানে ৫ ব্যাটসম্যানের আউট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৬২ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৭ রান করে ফেরেন অ্যালেক্স ক্যারি।  

১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া। দলের নিশ্চিত পরাজয় জেনেও শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামা লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে সঙ্গে নিয়ে শেষ চেষ্টা করে যান ক্যামেরন গ্রিন। বৃষ্টির আগে শেষ উইকেটে তারা ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন।

ক্যামেরন গ্রিন ৬৬ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমান। বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন নাহিদ রানা। ২টি করে উইকেট নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মোস্তাফিজুর রহমান।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..