বারকোলার দাম ১৪৫ মিলিয়ন, তবু হাল ছাড়ছে না লিভারপুল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৫, | ১৫:২৪:২০ |

চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে একের পর এক বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে লিভারপুল। ফ্লোরিয়ান ভিরৎস ও আলেক্সান্ডার ইসাককে দলে ভেড়ানোর পর এবার তাদের নজর পড়েছে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) তরুণ উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলার দিকে। ২৩ বছর বয়সী ফরাসি এই তারকাকে দলে নিতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতেও প্রস্তুত প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি। তবে পিএসজির চাওয়া আরও বেশি তাদের দাবি প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড।

গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর আক্রমণভাগে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে লিভারপুল। দীর্ঘদিনের নির্ভরতার প্রতীক মোহাম্মদ সালাহ ক্লাব ছাড়ার পর তার শূন্যতা পূরণে এমন একজন ফুটবলারের খোঁজে আছে অলরেডরা, যিনি গোল করতে যেমন দক্ষ, তেমনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে গতির ঝড় তুলতে পারেন। সেই বিবেচনায় বারকোলাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে দেখছেন ক্লাবটির কর্মকর্তারা।

২০২৩ সালে প্রায় ৩৮.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে লিওঁ থেকে পিএসজিতে যোগ দেন বারকোলা। এরপর থেকেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে দ্রুত ইউরোপের অন্যতম আলোচিত উইঙ্গারে পরিণত হয়েছেন। এই সময়ে পিএসজির হয়ে তিনি তিনটি লিগ ওয়ান, দুটি ফরাসি কাপ, একটি উয়েফা সুপার কাপ, একটি ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ এবং টানা দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দুই ফাইনালেই তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন।

ডান পায়ের খেলোয়াড় হলেও বারকোলা মূলত বাম প্রান্তে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রয়োজন হলে ডান উইং কিংবা সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবেও খেলতে পারেন। পিএসজিতে খভিচা কোয়ারাৎসখেলিয়া, দেজিরে দুয়ের মতো তারকা থাকায় নিয়মিত পুরো ৯০ মিনিট খেলার সুযোগ পান না। লিভারপুল মনে করছে, অ্যানফিল্ডে এলে তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

পরিসংখ্যানও বারকোলার পক্ষে কথা বলছে। গত মৌসুমে লিগ ওয়ানে প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৩.৫টি শট নিয়েছেন তিনি, যা ইউরোপের সেরা উইঙ্গারদের কাতারে তাকে জায়গা করে দিয়েছে। তার প্রত্যাশিত গোল ছিল ৯.৮৩, যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের উইঙ্গারদের মধ্যে সেরা পর্যায়ের একটি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ১১টি লিগ গোল করেন। প্রতিপক্ষের বক্সে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৮.৬৯ বার বল স্পর্শ করেছেন, যা তার গোলমুখী খেলার প্রমাণ।

শুধু গোল করাই নয়, প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে সুযোগ তৈরি করতেও সমান দক্ষ বারকোলা। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে দুইটির বেশি শট-শেষ হওয়া ড্রিবল সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি আক্রমণভাগে উচ্চ প্রেসিংয়েও তিনি দারুণ কার্যকর। গত মৌসুমে প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে বল পুনরুদ্ধারের দিক থেকে ইউরোপের সেরা ১০ খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন তিনি।

লিভারপুলের নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার পরিকল্পনার সঙ্গে বারকোলার খেলার ধরন ভালোভাবেই মানিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফ্লোরিয়ান ভিরৎসের সৃজনশীলতা, আলেক্সান্ডার ইসাকের গোল করার ক্ষমতা এবং বারকোলার গতি ও স্পেসে দৌড় এই ত্রয়ীকে নিয়ে নতুন আক্রমণভাগ গড়ে তুলতে চায় অলরেডরা।

তবে এই দলবদল সহজ হবে না। বারকোলা পিএসজির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় তাকে ছাড়তে খুব একটা আগ্রহী নয় ফরাসি ক্লাবটি। তাই লিভারপুলকে যদি এই তারকাকে দলে নিতে হয়, তাহলে হয়তো আরও বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিতে হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দুই ক্লাবের দর-কষাকষির শেষ পর্যন্ত বারকোলার গন্তব্য অ্যানফিল্ড হয় কি না।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..