পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পর সৌদিতে যাচ্ছেন এরদোয়ান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৭, | ১৯:৩৩:৫৫ |

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলা সংঘাত শুরুর পর সৌদি আরবে এটিই তার প্রথম সফর। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উভয় দেশ কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার(৭ আগস্ট) এরদোয়ানের কার্যালয় এই সফরকে একটি ‘রুটিনমাফিক একদিনের কর্মসফর’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

আলোচনার বিষয়বস্তু কী?

একদিনের সফরে এরদোয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরকে সঙ্গে নিয়ে তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবারই সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক বুরহানাত্তিন দুরান জানিয়েছেন, এই সফরে ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে তিনি আলোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচ্যসূচি বা এজেন্ডা প্রকাশ করেননি।

দুরান বলেন, সফরকালে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আলোচনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাব এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে; তবে আঙ্কারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছে।

একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি কি হতে চলেছে?

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিনটি দেশ একটি আনুষ্ঠানিক জোটে স্বাক্ষর করতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটেই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, জেদ্দায় তিন নেতা একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে তুরস্কের গোয়েন্দা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির মূল শর্তাবলী নিয়ে তিন পক্ষের মধ্যে আগেই সমঝোতা হয়ে গেছে।

যদি এই তথ্য নিশ্চিত হয়, তবে এটি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করবে। ওই চুক্তিতে এক পক্ষের ওপর আক্রমণকে উভয় পক্ষের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে; নতুন চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ককেও এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এমনও হতে পারে, এই সফরের শেষে কেবল একটি সাধারণ যৌথ বিবৃতিই প্রকাশ করা হবে।

এখনই কেন?
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে এরদোয়ানের রিয়াদ সফরের সময়ও তুরস্ক-সৌদি অক্ষ বা জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়নি। শুক্রবার(৭ আস্ট) অনুষ্ঠিতব্য এই সফরের সময়টিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালী এবং এডেন উপসাগর দিয়ে নৌ-চলাচল সুরক্ষার লক্ষ্যে সৌদি আরব একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ ঘোষণার এক সপ্তাহ পরেই এই সফরটি হচ্ছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ ১৪টি দেশ ইতোমধ্যেই এই জোটকে সমর্থন জানিয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট কয়েক মাসের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটেও এই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন হোটেল ও জ্বালানি স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গেও সৌদি আরবের উত্তেজনা বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে এবং ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

এরদোয়ানের সর্বশেষ সফরের সময় কী ঘটেছিল?

ফেব্রুয়ারির সেই সফরের পর, আঙ্কারা ও রিয়াদ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে; এতে তারা অর্থনীতি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তারা উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মও অন্তর্ভুক্ত। প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার ও উন্নয়নের বিষয়ে তাদের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পাশাপাশি গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’ এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সমর্থনের বিষয়ে তারা অভিন্ন অবস্থান প্রকাশ করে। একইসঙ্গে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি তারা প্রত্যাখ্যান করে।

তারা আরও জানায়, সোমালিয়া বিষয়ক প্রশ্নে উভয় পক্ষই ফেডারেল রিপাবলিক অফ সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও ঐক্যের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন এবং দেশটির স্থিতিশীলতা রক্ষা ও জনগণের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..