কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ছে, বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৭, | ১৯:৫১:৪৭ |

কুড়িগ্রামে তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি সামান্য কমলেও ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আরও বেড়েছে। এতে এসব নদ-নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত চার দিন ধরে নদ-নদীগুলোর পানির ওঠানামার কারণে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাটে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ২০ সেন্টিমিটার (সেমি) কমে বিপৎসীমার মাত্র ৪১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, দুধকুমার নদের পানি ১৩ সেমি কমে বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এছাড়া ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি ও সেতু পয়েন্টে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি ৫ থেকে ১০ সেমি বেড়ে বিপৎসীমার ৫০-৬০ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এসব নদনদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে অস্থায়ী বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

এসব এলাকার বসবাসরত মানুষ নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক আমন বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা আমনক্ষেত নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আগেরবারের আমন ও সবজির ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবারও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তারা কী করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না।

এদিকে, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি কমে যাওয়ায় এ দুটি নদনদী অববাহিকায় নদীভাঙন বেড়েছে। রাজাহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তৈয়বখা ও রামহরি এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজারের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একদিকে বন্যা, আরেকদিকে নদীভাঙন আমাদের শেষ করে দিচ্ছে। পরপর তিনবারের বন্যা তিস্তা নদী এলাকায় দেখা দিলে আমাদের আমন বীজতলাসহ শাক সবজির ব্যাক ক্ষতি হয়েছে।’

অন্যদিকে, নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের পাড়ের কচাকাটার বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘দুইবারের বন্যায় পটল, ঢেঁড়স, শসা ও শাকসবজিসহ ক্ষেত তলিয়ে যায়, সাথে আমনের বীজতলাও ডুবে যায়। কষ্ট করে নতুন করে আবার সবজি লাগিয়েছি কিন্তু বারবার বন্যা আমাদের অনেক ক্ষতি করছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, শুক্রবার দুপুরে তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি কমছে, কিন্তু ব্রহ্মপুত্রের দুইটি পয়েন্টে এবং ধরলার দুইটি পয়েন্টে পানে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণ না থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..