✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৯, | ১৪:৫৯:৫৫ |মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক এই আসর ঘিরে ফুটবল উন্মাদনায় ভুগছে ফুটবলপ্রেমীরা। ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো এবারের আসর ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বিশ্বকাপের সময় সমর্থক এবং সাধারণ মানুষকে অসুস্থতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খতিয়ে দেখবেন দেখতে মহামারী বিশেষজ্ঞরা।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক একটি জনস্বাস্থ্য দল পয়ঃবর্জ্য এবং ইন্টারনেটের কথোপকথন পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা করছে, যাতে ফুটবলার এবং দর্শকদের আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার কোনো শহরে সংক্রামক রোগ দেখা দিলে তা শনাক্ত ও ট্র্যাক করা যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে ১০৪টি খেলা দেখার জন্য ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে ৬৫ লাখেরও বেশি ফুটবল সমর্থকরা ভ্রমণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আয়োজনের বিশালতা এবং এর সঙ্গে জড়িত বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ দ্রুত রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এমন এক সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা দেশে ও বিদেশে হাম, ইবোলা এবং হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে।
নতুন রোগ-শনাক্তকরণ উদ্যোগের আয়োজকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বাজেট ও কর্মী ছাঁটাই এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের ফলে এই চ্যালেঞ্জগুলো আরও তীব্র হয়েছে।
সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে রিয়েল-টাইম ডেটা সরবরাহ করতে এগিয়ে এসে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নবগঠিত দলটি জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাগারকে একটি মহামারী সংক্রান্ত কমান্ড পোস্টে রূপান্তরিত করেছে। এই কেন্দ্রটি সরকারি সংস্থাগুলোকে সহায়তাকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থা এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে একত্রিত করেছে।
দলটি ইতোমধ্যে একটি দৈনিক পরিস্থিতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে, যা উদীয়মান ঝুঁকি এবং যেকোনো জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্থানীয়, রাজ্য, ফেডারেল ও আন্তর্জাতিক স্তরের হাসপাতালের জরুরি ব্যবস্থাপক এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে।
মেডস্টার হেলথ আঞ্চলিক হাসপাতাল চেইনের সহযোগিতায় চালু হওয়া এই অপারেশন কেন্দ্রটি লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকসহ ভবিষ্যতের বিভিন্ন আয়োজনের জন্য একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবেও কাজ করছে। মেডস্টার দেশের ১৩টি বায়োকন্টেইনমেন্ট ইউনিটের মধ্যে একটির আয়োজক।
জর্জটাউনের সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড সিকিউরিটির পরিচালক এবং নতুন রোগ নজরদারি প্রচেষ্টার প্রধান রেবেকা কাটজ বলেছেন, পরীক্ষাগারে কালচারের প্রয়োজন ছাড়াই বিভিন্ন অণুজীবের জেনেটিক স্ট্র্যান্ড খুঁজে বের করতে ডিএনএ এবং আরএনএ সিকোয়েন্সিং ব্যবহার করা হচ্ছে। যা উন্নত বর্জ্যজল বিশ্লেষণ সংক্রামক রোগের হুমকি পর্যবেক্ষণের একটি মূল উপাদান হিসেবে কাজ করবে।
কাটজ বলেন, এটি অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী। তার দল বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সংগ্রহ কেন্দ্রগুলো থেকে, সেইসঙ্গে বিশ্বকাপের তিনটি আয়োজক দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ উৎস থেকে এই ধরনের তথ্য পাচ্ছে।
কাটজ তার অপারেশনস সেন্টারের জন্য ২০ জন সহকর্মীর পাশাপাশি আরও ৩০টি সংস্থার কাছ থেকে বিনামূল্যে সহায়তা ও সমর্থন পেয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি বর্জ্যজল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাও রয়েছে। যারা পয়ঃবর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছে এবং কোনো চার্জ ছাড়াই তাদের ডেটা ক্যাটজের দলের সঙ্গে শেয়ার করছে।
কেন্দ্রটির জন্য আর্থিক সহায়তা এসেছে একটি ছোট পারিবারিক ফাউন্ডেশন এবং জর্জটাউন থেকে, এর পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অফ নেব্রাস্কার মতো অংশীদারদের কাছ থেকে বস্তুগত অনুদানও পাওয়া গেছে।