✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৮, | ২২:২৬:০৭ |বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল মানেই এক অন্যরকম আবেগ, এক অদম্য উন্মাদনা। ইতিহাসের প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া একমাত্র দল হিসেবে সেলেসাওদের পথচলা যেমন গৌরবময়, তেমনি প্রত্যাশার ভারও সবসময় তাদের কাঁধে থাকে।
১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২—পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড নিয়ে ব্রাজিল এখনো এককভাবে শীর্ষে। সাতবার ফাইনাল এবং ১১ বার সেমিফাইনাল খেলার ইতিহাস তাদের ফুটবল শক্তিমত্তারই প্রমাণ। পেলের যুগ থেকে রোনালদো নাজারিও—প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঐতিহ্য বদলায়নি।
তবে বাস্তবতা হলো, ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি আর ছোঁয়া হয়নি ব্রাজিলের। গত কয়েকটি আসরে কোয়ার্টার ফাইনালই যেন তাদের জন্য এক অদৃশ্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে নেইমারের বারবার চোট দলকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।
এবার সেই হতাশা ভুলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে নামছে ব্রাজিল। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি নতুন পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। তার অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচ সামলানোর দক্ষতা ব্রাজিলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
গ্রুপ সি-তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতি। কাগজে-কলমে গ্রুপটি তুলনামূলক সহজ মনে হলেও আধুনিক ফুটবলে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মরক্কোর মতো দল সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছে।
দলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগোর মতো তরুণ তারকারা আছেন, যারা ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন মুহূর্তেই। অন্যদিকে নেইমার এখনো দলের সবচেয়ে বড় নাম, যদিও তার ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির মিশেলে গড়া এই ব্রাজিল দলকে অনেকেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধুমাত্র নাম বা ইতিহাস নয়, পারফরম্যান্সই শেষ কথা।
এখন প্রশ্ন একটাই—২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিল কি পারবে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে, নাকি আবারও অপূর্ণ থেকে যাবে সাম্বা সমর্থকদের আশা।