সিএনএনের প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের ফেভারিট কারা?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৮, | ২২:২৫:১৬ |

বিশ্বকাপের আসর শুরু হতে মাত্র দুই দিন বাকি। ফুটবল ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আজ পর্যন্ত মাত্র আটটি দেশ এই সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার গৌরব অর্জন করেছে। ভবিষ্যদ্বাণী করা বরাবরই কঠিন, তবে ফুটবল বিশ্লেষক আর বাজিকরদের তালিকায় এবার মূল ফেভারিট হিসেবে ছয়টি দেশের নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে।

এই তালিকার একদম শুরুর দিকে রয়েছে স্পেন। গত চার বছরে উয়েফা নেশনস লিগ, ইউরো ২০২৪ এবং প্যারিস অলিম্পিকের স্বর্ণ জিতে লা রোহারা এখন উড়ছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা দলটি এখন টিকিটাকা পাসের চেয়েও অনেক বেশি গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। তবে বার্সেলোনা তারকা ফেরমিন লোপেসের চোট এবং আক্রমণ করতে গিয়ে রক্ষণভাগ অরক্ষিত রেখে দেওয়ার প্রবণতা কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে। বার্সার ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকে ইতিমধ্যেই লিওনেল মেসির উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে, যদিও প্রথম ম্যাচের আগে তার চোট কাটিয়ে ওঠার একটা তাগিদ রয়েছে। সাথে থাকছেন গতিময় উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস ও মাঝমাঠের চালিকাশক্তি পেদ্রি। গ্রুপ পর্বে তারা কেপ ভার্দে, সৌদি আরব এবং উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।

স্পেনের সাথে যৌথভাবে শীর্ষ ফেভারিট হিসেবে নাম আসছে বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্সের। গত দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা কিলিয়ান এমবাপের দল এবারও অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ নিয়ে মাঠে নামছে। ব্যালন ডি’অর বিজয়ী উসমান দেম্বেলে কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসের মতো তারকারা স্কোয়াডে থাকায় ফরাসিদের শক্তি অগাধ। প্রতিআক্রমণ, অভিজ্ঞ ও তরুণদের দারুণ সমন্বয় এবং কোচের দায়িত্বে থাকা দিদিয়ে দেশমের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক তাদের বড় শক্তি। দেশম ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, কোচ হিসেবে এটিই তার শেষ টুর্নামেন্ট। সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা গ্রুপ পর্বের অভিযান শুরু করবে।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নামছে আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপের পর কোপা আমেরিকা ২০২৪ জয় এবং দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে আধিপত্য বজায় রেখে আলবিসেলেস্তেরা প্রমাণ করেছে যে তাদের জয়ের ক্ষুধা কমেনি। ৩৮ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস ও ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হাত ধরে তাদের রক্ষণভাগ যেমন জমাট, তেমনি লাউতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেসদের উপস্থিতিতে আক্রমণভাগও ধারালো। কোচ লিওনেল স্কালোনি দলের ভেতরে এমন এক গভীরতা তৈরি করেছেন যেখানে ফুটবলাররা ক্লাবের চেয়ে দেশের জার্সিতে বেশি জ্বলে ওঠেন। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান।

ইউরোপের অন্যতম গোছানো দল হিসেবে পর্তুগালকে এবার হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ২০২৩-২৫ উয়েফা নেশনস লিগ জয়ী দলটি এবার অন্যতম সেরা ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে এসেছে। ৪১ বছর বয়সে এসেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলক্ষুধা ও জেদ কমেনি, যার প্রমাণ তিনি নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে গোল দিয়ে রেখেছেন। মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ভিতিনিয়া যেমন আছেন, তেমনি বাঁ-প্রান্তে নুয়েনশ মেন্দেস আর রাফায়েল লেয়াওয়ের গতি প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের কারণ হবে। কোচ রবার্তো মার্তিনেসের অধীনে দলটি হাই-প্রেসিং ও বলের দখল ধরে রেখে খেলার কৌশলে দারুণ সফল। গ্রুপ পর্বে তাদের লড়তে হবে ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে।

এদিকে ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ ৬০ বছরের খরা কাটাতে মরিয়া ইংল্যান্ড। বাছাইপর্বে আট ম্যাচের সবকটিতে জিতে এবং কোনো গোল না হজম করে থ্রি লায়ন্সরা নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা জেতা অধিনায়ক হ্যারি কেইন বর্তমানে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। মাঝমাঠে জুড বেলিংহ্যাম এবং উইঙে বুকায়ো সাকার মতো তারকারা কোচ থমাস টুখেলের বড় ভরসা। তবে কেইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং তার বিকল্পের অভাব টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে। গ্রুপ পর্বে তারা ক্রোয়েশিয়া, ঘানা এবং পানামার মুখোমুখি হবে।

ফেভারিটদের এই তালিকায় কিছুটা পিছিয়ে থেকে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে পঞ্চম হওয়া সেলেসাওরা গত চার বছরে চারজন কোচ পরিবর্তন করেছে। সেই অস্থিরতা কাটিয়ে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সফল মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। এই ব্রাজিল দলে অতীতের মতো তারকাদের ছড়াছড়ি নেই, বরং রক্ষণে খেলোয়াড় বেশি। রিয়াল মাদ্রিদের নাম্বার সেভেন ভিনিসুয়াস জুনিয়রই এখন ব্রাজিলের প্রধান ভরসা, যাকে ডান প্রান্ত থেকে সাহায্য করবেন রাফিনিয়া। আক্রমণভাগে তরুণ এন্ড্রিক চমক দেখাতে পারেন। তবে ফর্মের বাইরে থাকা ৩৪ বছর বয়সী নেইমারকে দলে রাখা হলেও আনচেলত্তি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে অবদান রাখতে হলে নেইমারকে তার শারীরিক ফিটনেস দ্রুত ফেরাতে হবে। দল হিসেবে ব্রাজিল এখনো শতভাগ গুছিয়ে উঠতে না পারলেও, বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের ঐতিহ্য আর সামর্থ্যকে কেউই উড়িয়ে দিতে পারছে না।

সিএনএনের বিশ্লেষণ

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..