✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৪, | ১৮:২০:১০ |আগামী মাসে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আসন্ন টুর্নামেন্টে উপযুক্ত পেস কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাস পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি আসরে ২৫টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে। ২০১৪ সালের আসরে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের জয় পেয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে জয়হীন ছিল। সবশেষ ২০২৪ সালের টুর্নামেন্টে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পান জ্যোতিরা।
রবিবার (২৪ মে) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নিগার বলেন, আমরা (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে) দীর্ঘদিন ধরে জয়হীন পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। কিন্তু আমি এটাকে চাপ হিসেবে দেখছি না। বরং আমি এটাকে ইতিহাস পরিবর্তনের একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি।
তিনি বলেন, গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুবাইয়ের সেই ম্যাচটি জেতা আমাদের দারুণ এক অনুভূতি দিয়েছিল, যদিও আমরা আমাদের বাকি ম্যাচগুলো জিততে পারিনি। তবে গত বছরের তুলনায় আমার মনে হয় আমরা আরও ভালো দলীয় সমন্বয় গড়ে তুলেছি। আমাদের জয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। টি-টোয়েন্টিতে আগের চেয়ে এখন আরও বেশি খেলোয়াড় উঠে দাঁড়াচ্ছে। আমরা বিশ্ব মঞ্চে আরও ভালো খেলতে এবং ধারাবাহিকভাবে আরও বেশি ম্যাচ জিততে চাই।
নিগার আরও বলেন, দলে মাত্র দুজন প্রধান পেসার মারুফা আক্তার ও ফারিহা ইসলাম থাকা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। এই অধিনায়ক বলেন, রিতু মনি তৃতীয় সিম-বোলিং বিকল্পের ভূমিকা কার্যকরভাবে পালন করতে পারবেন। দুজন পেসারের সঙ্গে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার (রিতু মনি) আছেন এবং আজকাল আমি সবসময় এই প্রশ্নের মুখোমুখি হই যে ইংল্যান্ডে মাত্র দুজন পেসার কেন। এর কারণ হলো তারা গত ছয় মাস ধরে দলের সঙ্গে একটানা খেলছে, তাই আমরা ভাবছিলাম যে বিশ্বকাপে খেলার জন্য প্রস্তুত ক্রিকেটারদেরই দলে রাখা দরকার।
তিনি আরও যোগ করেন, মারুফা দলের জন্য ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করছে এবং তৃষ্ণা প্রায় প্রমাণিত। আমি গত সিরিজে তার পারফরম্যান্স দেখেছি এবং যে দুই-একটি ম্যাচে সে সুযোগ পেয়েছে, সেখানেই নিজের ছাপ রেখেছে। তাই কমবেশি আমরা সেই দুজন পেসারকেই নিচ্ছি যারা খেলার জন্য প্রস্তুত। এই দুজন ক্রিকেটারকে ধরে রাখা এবং বিশ্বকাপের জন্য তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার এখনই উপযুক্ত সময়।
এ সময় বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিজের ফিটন্যান্স নিয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার ফিটনেস নিয়ে জল্পনা-কল্পনা সত্ত্বেও তিনি সম্পূর্ণ ফিট এবং খেলার জন্য আগ্রহী। এই জল্পনা-কল্পনার কারণেই আগে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার ব্যাপারে বেছে বেছে খেলতেন। দীর্ঘদিনের চোট সামলানোর পাশাপাশি ফিটনেসের ওপর মনোযোগ দিতে নিগার ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) গত আসরটি খেলেননি।
নিগার বলেন, আমি জানি না কেন এই প্রশ্নটা সবসময় আসে। সত্যিটা বলি, আমার ডান হাতের বুড়ো আঙুলের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় সেখানে আর লিগামেন্ট নেই, তাই আমি এত বছর ধরে খেলে আসছি। এটা কি কেউ জানত? আমি শতভাগ ফিট এবং আমি বিশ্বকাপ দলে নির্বাচিত হয়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই কিছু না কিছু ছোটখাটো সমস্যা থাকে এবং পৃথিবীতে কেউই বলতে পারবে না যে তার কোনো চোট নেই। সবাই সেই সমস্যাগুলো সামলে খেলে। আমরাও একই জায়গায় আছি এবং এমন কিছু ছোটখাটো বিষয় আছে যা সামলানো যায়। আমি সেটাই করছি এবং এর কোনো প্রভাব মাঠে পড়বে না।
বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে সোমবার (২৫ মে) ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ। আগামী ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ১৭ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২০ জুন পাকিস্তান, ২৫ জুন ভারত এবং ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে টাইগ্রেসরা।