✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৫, | ১৩:৫৬:৩৯ |দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দেশ দুটির মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে।
এই চুক্তির ফলে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা মার্কিন অবরোধ স্থগিত হবে আর হরমুজহ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য ফের উন্মুক্ত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ আবার শুরু হলে তাতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে তা তুলে ধরা হল:
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন মহাসচিব। এই চুক্তি তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সূচনা করবে, হরমুজ প্রণালি ফের সচল করবে আর পরবর্তী আলোচনার কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এগুলো যুদ্ধটির শান্তিপূর্ণ মীমাংসার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করে।”
ইউরোপের চার দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির নেতাদের যৌথ বিবৃতি:
“ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। আমরা এই প্রান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আইএইএ এর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।”
পৃথক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। আমরা পরিষ্কার যে হরমুজ প্রণালিতে টোল মুক্ত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এখন পুনরুদ্ধার করতে হবে। “
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে সমঝোতায় পৌঁছেছে তাকে স্বাগত জানাই। এটি একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল যেখানে বেশ কয়েকজন অংশীদার অবদান রেখেছে। আমি এর দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য যুদ্ধরত পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই। এই চুক্তি অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে ও শর্তহীনভাবে হরমুজ প্রণালির ফের উন্মুক্ত করবে, যুক্তরাজ্যকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মিশন এতে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।”
তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তাকে স্বাগত জানাই। এই কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ও ইরানি পক্ষকে অভিনন্দন। এটি একটি পুনরুজ্জীবিত বিশ্ব অর্থনীতি এবং আরও সুরক্ষিত মধ্যপ্রাচ্যের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এটি দৃঢ় সংকল্পের সাথে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এই নেতাদের পাশাপাশি জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এই শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।