জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নতুন আইন আনছে কানাডা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৪, | ১৩:২৭:১২ |

জোরপূর্বক শ্রমে (Forced Labour) তৈরি পণ্যের আমদানি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন আইন প্রস্তাব করেছে কানাডা সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন শুল্ক (ট্যারিফ) হুমকির প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) কানাডার পার্লামেন্টে বিল সি-৩৫ নামে প্রস্তাবিত আইনটি উত্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আননড এর সংসদীয় সচিব রব এলিফ্যান্ট।

অলিফ্যান্ট বলেন, এটি একটি ‘কানাডীয় সমাধান’, যা আন্তর্জাতিক সমস্যার মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে এমন পণ্যের একটি সার্বজনীন তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা থাকবে, যেগুলো নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ তালিকা প্রস্তুত করা হবে কানাডার দূতাবাস, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে।

নতুন আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত অঞ্চল থেকে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকেই প্রমাণ করতে হবে যে তাদের পণ্য জোরপূর্বক শ্রম বা আধুনিক দাসত্বের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়নি।

বর্তমানে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি ঝুঁকি মূল্যায়ন ও এলোমেলো বাছাইয়ের মাধ্যমে কনটেইনার পরীক্ষা করে থাকে। তবে নতুন আইন কার্যকর হলে সীমান্ত কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের তালিকা ধরে আরও লক্ষ্যভিত্তিক তল্লাশি চালাতে পারবেন।

সরকারের দাবি, এই আইন কানাডাকে মেক্সিকো এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রস্তাবিত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।

অলিফ্যান্ট বলেন, ‘জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি সস্তা পণ্য কানাডার বাজারে ঢুকুক, আমরা তা চাই না।’

এদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি অফ কানাডার পররাষ্ট্রবিষয়ক সমালোচক মাইকেল চং বিলটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অনেক আগেই নেয়া উচিত ছিল।

প্রস্তাবিত বিলটি এখন সংসদীয় পর্যালোচনা ও জনপরামর্শের মধ্য দিয়ে যাবে। গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও, মানবাধিকার এবং ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..