‘চূড়ান্ত বিজয়ের পথ দৃঢ়তা ও শাহাদাতের মাধ্যমেই সুগম হয়’

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১১, | ১৪:০৫:৪৬ |
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান তার অবস্থান থেকে সরেনি। বরঞ্চ সামরিক হামলা, নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মুখে প্রতিরোধ অব্যাহত রেখে বারবার চূড়ান্ত বিজয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

তারই প্রেক্ষাপটে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ বলেছেন, চূড়ান্ত বিজয় ও সাফল্যের পথ কেবল দৃঢ়তা ও শাহাদাতের মধ্য দিয়েই সুগম হয়। সামরিক কমান্ডার ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও ইরানের অগ্রযাত্রা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় কোনো ধরনের ভাটা পড়েনি।

 বুধবার প্রকাশিত এক বার্তায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রাণ উৎসর্গকারী সামরিক নেতা ও বিজ্ঞানীদের স্মরণ করে এসব কথা বলেন তিনি।

কালিবাফ বলেন, ‘কমান্ডার ও বিজ্ঞানীদের পরিকল্পিত গুপ্তহত্যা সত্ত্বেও ইরানের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি। যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান যথাসময়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।’

ইতিহাসের বিভিন্ন সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে চূড়ান্ত বিজয় ও সাফল্যের পথ দৃঢ়তা, প্রতিরোধ ও শাহাদাতের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়।

তার ভাষায়, ‘জনগণ এখন জেগে উঠেছে। রাজপথগুলো আজ প্রতিরোধের মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে। এই জাগরণ অন্য নিপীড়িত জাতিগুলোকেও অনুপ্রাণিত করছে এবং তাদের মনোবল শক্তিশালী করছে।’

ইরানি স্পিকার আরও বলেন, শহীদরা এখনও জাতিকে পথ দেখাচ্ছেন এবং সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশিত পথে পরিচালিত করছেন। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি চূড়ান্ত বিজয়কে ‘অতি নিকটবর্তী’ বলেও উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা আস-সফের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে মুমিনদের জন্য বিজয়ের সুসংবাদ স্মরণ করেন।

বার্তায় কালিবাফ দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শীর্ষ সামরিক নেতাদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন সালামি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আলী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রব্বানী, আমির আলি হাজিজাদেহ, আলী শাদমানি, মোহাম্মদ কাজেমি ও সাইদ ইজাদি।

একই সঙ্গে শত্রুপক্ষের হামলায় নিহত প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ফেরেদউন আব্বাসি ও ড. মোহাম্মদ মেহেদি তেহরানচির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে ‘কঠোর’ বিমান হামলা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। দেশটির সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড তেলবাহী ট্যাংকার, বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের জন্য প্রণালিটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা যেকোনো নৌযানকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


সূত্র: মেহের নিউজ, আল-জাজিরা 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..