✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১০, | ১৩:৩৬:৪৪ |দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর আবারও রক্তাক্ত হলো পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত। কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে দুই দেশের সম্পর্ক ঘিরে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী ও একজন বৃদ্ধ রয়েছেন।
খোস্ত প্রদেশের একটি বসতবাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় এক কর্মকর্তা। একই সময়ে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পৃথক আরেক হামলায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা সরকার। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই দাবি করা হয়, সীমান্তের ওপারে কেবল সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীকেই লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়, বেসামরিক নাগরিকদের নয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর কিছুটা বিরতি থাকলেও সাম্প্রতিক এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা উসকে দিয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের প্রথম তিন মাসেই দুই দেশের সংঘাতে শত শত বেসামরিক আফগান নিহত হয়েছেন।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এর সম্পর্ক টানাপোড়েনে রয়েছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে এমন হামলা অব্যাহত থাকলে শুধু নিরাপত্তা নয়, দুই দেশের বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তথ্য সূত্র- এপি নিউজ।