✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৮, | ১২:৫৫:০১ |ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলের দেশ আর্মেনিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, তার নেতৃত্বাধীন সিভিল কনট্র্যাক্ট পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে। ফলে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে এককভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আর্মেনিয়া ঐতিহ্যগতভাবেই রাশিয়ার প্রভাববলয়ে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পথে হাঁটছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগেই প্রশ্ন উঠেছিল দেশটি কি পশ্চিমা বিশ্বের দিকে আরও ঘনিষ্ঠ হবে নাকি মস্কোর সঙ্গেই সম্পর্ক জোরদার করবে? তবে সব আলোচনা পেছনে ফেলে রুশপন্থী দলগুলোকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে পাশিনিয়ানের দল।
সোমবার আর্মেনিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল গণনা শেষে ক্ষমতাসীন সিভিল কনট্র্যাক্ট পার্টি ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে, রুশ-আর্মেনীয় ধনকুবের স্যামভেল কারাপেতিয়ানের নেতৃত্বাধীন স্ট্রং আর্মেনিয়া জোট পেয়েছে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।
এছাড়া দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট কোচারিয়ানের নেতৃত্বাধীন আর্মেনিয়া জোট প্রায় ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। পাসপারাস আর্মেনিয়া পার্টি পেয়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট, যা পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাশিনিয়ানের পশ্চিমামুখী নীতি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার উদ্যোগের প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার পক্ষেও ভোটাররা সমর্থন দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপেও পাশিনিয়ানের দল এগিয়ে ছিল। বেশ কয়েকটি জরিপে তার দলের সমর্থন ৩০ শতাংশের বেশি দেখা গেলেও রুশপন্থী দলগুলোর সমর্থন তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল।
অন্যদিকে, স্ট্রং আর্মেনিয়া জোটের অবস্থান ছিল ভিন্ন। দলটি আর্মেনিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ও জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে প্রচারণা চালায়। মস্কোর সঙ্গে পাশিনিয়ান সরকারের দূরত্ব বাড়তে থাকায় এবারের নির্বাচনকে রাশিয়ার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
এদিকে ভোটগ্রহণ ও গণনাকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গিউমরি শহরে স্ট্রং আর্মেনিয়ার প্রধান কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে এবং দলটির কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় বিরোধী শিবির সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল।
সূত্র: ডয়চেভেলে