কে হবেন এবারের বিশ্বকাপের তারকা ফুটবলার?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৭, | ২১:০৪:৪৬ |

ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। উত্তর আমেরিকার সবুজ গালিচায় পর্দা উঠছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন বর্তমান যুগের কিংবদন্তি থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ শাসন করতে আসা একঝাঁক তরুণ তুর্কি। মাঠের লড়াই শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে এখন একটাই আলোচনা; কারা হবেন এই আসরের ভাগ্যবিধাতা, কার পায়ের জাদু মন্ত্রমুগ্ধ করবে কোটি ফুটবল অনুরাগীকে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াতে আসা নতুন তারকাদের নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

মরুর বুকে কাতারের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার চার বছর পর, এবার নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে যাচ্ছেন ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এই অনন্য কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন। তবে বয়সের ভার এবং শারীরিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে আলবিসেলেস্তেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবার হয়তো মেসির ভূমিকা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবুও ড্রেসিংরুমের অনুপ্রেরণা আর মাঠের যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অলৌকিক ক্ষমতার কারণে ফুটবলপ্রেমীদের মূল আকর্ষণ হয়ে থাকবেন এই বাঁ-পায়ের জাদুকরই।

মেসির পাশাপাশি এই আসরটি হতে যাচ্ছে পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ আন্তর্জাতিক মঞ্চ। ৪১ বছর বয়সেও নিজের অবিশ্বাস্য ফিটনেস ধরে রেখে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন সিআরসেভেন। কাতারে সাবেক কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের অধীনে অধিকাংশ সময় বেঞ্চে কাটলেও, বর্তমান কোচ রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে এবার তিনি মাঠে পর্যাপ্ত সময় পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নিজের শেষ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে সোনালি ট্রফি এনে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বৃত্তটা পূর্ণ করতে মরিয়া হয়ে আছেন এই গোলমেশিন।

প্রজন্মের সেরা তরুণ প্রতিভার কথা বলতে গেলে সবার আগে আসবে স্পেনের উনআঠারো বছর বয়সী উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের নাম। ২০২৪ সালের ইউরো জয়ের অন্যতম নায়ক এই তরুণ এবারই প্রথম খেলবেন বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে। বিশ্বমঞ্চেও যদি তিনি নিজের সহজাত ড্রিবলিং আর ক্ষিপ্রতা বজায় রাখতে পারেন, তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বুট জেতার এক নতুন রেকর্ড গড়তে পারেন বার্সেলোনার এই বিস্ময় বালক।

গত বিশ্বকাপের ফাইনালের হ্যাটট্রিক হিরো কিলিয়ান এমবাপ্পে এবার নামছেন নতুন এক মিশন নিয়ে। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা অলিভিয়ের জিরুদের ৫৭ গোলের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। গতি আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অনন্য মিশ্রণে গড়া এই ফরাসি ফরোয়ার্ড গতবারের রানার্স-আপ হওয়ার ক্ষত ভুলে এবার ট্রফি নিজের করে নিতে বদ্ধপরিকর। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এমবাপ্পে একাই যেকোনো রক্ষণভাগকে ধুলিসাৎ করে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর নরওয়েকে বিশ্বকাপে নিয়ে এসে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির ২৫ বছর বয়সী গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। ইউরোপীয় বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ১৬ গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। মাত্র ৫০টিরও কম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলবেন। নরওয়ের সোনালী প্রজন্মের নেতৃত্ব দেওয়া এই দানবীয় স্ট্রাইকারের পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক বুন্দেসলিগা গোল্ডেন বুট জিতে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থেকে বিশ্বকাপে পা রাখছেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন যদি এবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেন, তবে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার অনন্য কীর্তি গড়বেন তিনি। থ্রি লায়ন্সদের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হিসেবে তিনি দলকে প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বাদ দিতে প্রস্তুত।

এদিকে ইনজুরি জর্জরিত ব্রাজিল দলের আক্রমণভাগের সব দায়িত্ব এখন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০২৪ সালের ফিফা দ্য বেস্ট পুরষ্কার জেতা ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কাঁধে। চার বছর আগে দলে কেবল জায়গা পাওয়া ভিনিসিয়ুস এবার এসেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে। নেইমার জুনিয়রের দলে আকস্মিক অন্তর্ভুক্তি থাকলেও কোচের প্রিয় ছাত্র ভিনিসিয়ুসের গতি ও ড্রিবলিংয়ের ওপরই ভরসা করবে সেলেসাওরা।

অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জেতানো ২৬ বছর বয়সী উইঙ্গার অ্যান্টনি সেমেনিয়ো ইনজুরিতে পড়া মোহাম্মদ কুদুসের অনুপস্থিতিতে ঘানা দলের মূল চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছেন। এছাড়া দীর্ঘ দুই দশক পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কের ফুটবল ভক্তদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ উইঙ্গার আরদা গুলের। ইনজুরির ধাক্কা কাটিয়ে আফ্রিকান ফুটবলের আইকন মোহাম্মদ সালাহও নিজের সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপে মিশরকে ঐতিহাসিক কিছু উপহার দিতে উত্তর আমেরিকার মাঠে নামবেন। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..