কীভাবে বিশ্বকাপের সুরের প্রতীক হয়ে উঠলেন শাকিরা?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৬, | ২০:০১:০৩ |
বিশ্বসঙ্গীতের সবচেয়ে বড় নামগুলোর মধ্যে একটি হলো কলম্বিয়ার গায়িকা, গীতিকার ও নৃত্যশিল্পী শাকিরা। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি লাতিন মিউজিককে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয়গুলোর একটি হলো- ফিফা বিশ্বকাপের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং স্মরণীয় সব থিম সং।

বিশ্বকাপের সঙ্গে শাকিরার শুরু যেভাবে
শাকিরার বিশ্বকাপ-সংযোগ শুরু হয় ২০১০ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ দিয়ে। সেই আসরের অফিসিয়াল গান ছিল ‘ওয়াকা ওয়াকা(দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’, যা তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যান্ড ফ্রেশলিগ্রাউন্ডের সঙ্গে গেয়েছিলেন।
এই গানটি শুধু বিশ্বকাপের থিম সং-ই হয়নি, এটি হয়ে ওঠে ইতিহাসের অন্যতম সফল স্পোর্টস অ্যান্থেম। স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে শাকিরার পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বকাপের স্থায়ী প্রতীকে পরিণত করে।

গানটির জনপ্রিয়তা এতটাই বিশাল ছিল যে এটি কোটি কোটি কপি বিক্রি হয় এবং বিশ্বজুড়ে চার্টলিস্টের শীর্ষে উঠে আসে।

শাকিরার বিশ্বকাপ সম্পর্ক কেবল একটি গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি একাধিক আসরে যুক্ত ছিলেন—

২০০৬ বিশ্বকাপ (জার্মানি)
শাকিরা বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন (থিম সং ছিল না, তবে উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ)। এই সময় থেকেই বিশ্বকাপের মঞ্চে তার উপস্থিতি শুরু হয়।

২০১০ বিশ্বকাপ (দক্ষিণ আফ্রিকা)
অফিসিয়াল গান: ‘ওয়াকা ওয়াকা(দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’। এটি সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপের গান হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০১৪ বিশ্বকাপ (ব্রাজিল)
অফিসিয়াল গান: ‘লা লা লা’। এটি বিশ্বকাপের জন্য তার দ্বিতীয় অফিসিয়াল গান।




২০১৮ বিশ্বকাপ (রাশিয়া)
অফিসিয়াল গান না হলেও, উদ্বোধনী/প্রমোশনাল পারফরম্যান্সে শাকিরা যুক্ত ছিলেন।

অর্থাৎ শাকিরার অন্তত ৩টি বিশ্বকাপে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪) সরাসরি বড় ভূমিকা ছিল এবং ২টি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান তার কণ্ঠেই এসেছে।

শাকিরা বিশ্বকাপ সংগীতকে শুধু বিনোদন নয়, একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ভাষায় পরিণত করেছেন। তার গানগুলোতে থাকে বিশ্ব ঐক্যের বার্তা, আফ্রিকান ও লাতিন রিদমের মিশ্রণ, খেলাধুলার উদ্দীপনা ও আবেগ। উল্লেখ্য, “ওয়াকা ওয়াকা” আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ও সর্বাধিক দেখা গানগুলোর একটি।

শাকিরার সঙ্গীত জগতে যাত্রা ও উত্থান
শাকিরার জন্ম ১৯৭৭ সালে কলম্বিয়ার বারানকিয়ায়। তার পুরো নাম শাকিরা ইসাবেল মেবারাক রিপোল। তিনি ছোটবেলা থেকেই কবিতা লেখা ও গান তৈরির প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং কাজ শুরুও করেন। তবে শুরুটা ছিল কঠিন, প্রথম দুইটি অ্যালবাম বাণিজ্যিকভাবে খুব সফল হয়নি। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।

১৯৯৫ সালে তার অ্যালবাম ‘Pies Descalzos’ তাকে লাতিন আমেরিকায় সুপারস্টার বানায়। এরপর ‘Whenever, Wherever’ (২০০১) গানটি তাকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করে। এরপর ‘Hips Don’t Lie’ (২০০৬) হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক হিটগুলোর একটি। এই সময় থেকেই শাকিরা লাতিন মিউজিককে মূলধারার পপ সংস্কৃতিতে শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসেন।

শাকিরার বর্তমান অবস্থান
আজ শাকিরা শুধু একজন গায়িকা নন—তিনি একজন বৈশ্বিক আইকন। ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরেও তিনি আবার নতুন গান ও পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় এসেছেন, যা তার বিশ্বকাপ-যাত্রার ধারাবাহিকতাকেই আরও শক্তিশালী করছে। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য শাকিরার সবচেয়ে আলোচিত গান হলো ‘দাই দাই’, যা তিনি নাইজেরিয়ার শিল্পী বার্না বয়-এর সঙ্গে গেয়েছেন এবং এটিই টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

এই গানটা মূলত আফ্রো-বিটস আর লাতিন পপ মিশিয়ে বানানো হয়েছে, যাতে বিশ্বকাপের ‘গ্লোবাল ইউনিটি’ থিমটা উঠে আসে। গানের ভেতরে ফুটবল উন্মাদনা, বিভিন্ন দেশের নাম এবং উৎসবের মতো এনার্জি রাখা হয়েছে, যা স্টেডিয়ামের আমেজ ও উন্মাদনা তৈরি করে।

শাকিরার গল্প শুধু সংগীতের সাফল্যের গল্প নয়—এটি একজন শিল্পীর বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প। বিশ্বকাপের সঙ্গে তার সম্পর্ক তাকে ‘ফুটবলের সুর’ হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..