সর্বশেষ :
প্রথমবারের মতো ভ্যাকসিন তৈরি করল এআই, রোগ প্রতিরোধে নতুন আশা ইভির দিকে ঝুঁকছে ভারত, তবে বড় বাধা চার্জিং অবকাঠামো যুদ্ধের পর প্রথম রিপোর্ট: ইরানের মজুদ ইউরেনিয়ামের হদিস পাচ্ছে না আইএইএ ইরানকে তিন দিক থেকে ঘেরাও, আজারবাইজানে গোপন ঘাঁটির তথ্য ফাঁস চীনের এজেন্ট হয়ে আমেরিকায় ছদ্মনামে সাংবাদিকতা, অতঃপর… বাড়িতে চলছিল শেষকৃত্য, অতঃপর ‘অলৌকিক’ প্রত্যাবর্তন এভারেস্টে নিখোঁজ শেরপার! বিশ্বের প্রায় অর্ধেক সিগারেট পোড়ে এ দেশেই বাসচাপায় আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু, দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ ফুটবল বিশ্বকাপে প্রযুক্তির নতুন অধ্যায়, নিরাপত্তায় রোবট কুকুর আগামী ৫০ বছরে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে ১৫ দেশ

এবার বল নিজেই ধরবে অফসাইড!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৫, | ২২:৩৭:৩৮ |
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হতে যাওয়া অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। উন্নত সেন্সর, রিয়েল-টাইম ডেটা আদান-প্রদান এবং আধুনিক নকশার সমন্বয়ে তৈরি এই বলকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আধুনিক ‘স্মার্ট বল’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস তৈরি করেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই অফিসিয়াল বল। ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে ইংরেজি শব্দ Tri এবং স্প্যানিশ শব্দ Onda থেকে। Tri নির্দেশ করে বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে। আর Onda অর্থ ‘ঢেউ’। ফলে নামটির অর্থ দাঁড়ায় ‘তিন দেশের ঐক্যের ঢেউ’।



বলের নকশাতেও ফুটে উঠেছে তিন আয়োজক দেশের পরিচয়। এতে স্থান পেয়েছে কানাডার ম্যাপল লিফ, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারার প্রতীক। লাল, সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয়ে তৈরি নকশা যৌথ আয়োজনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ট্রাইওন্ডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি। বলটির ভেতরে সংযুক্ত করা হয়েছে ৫০০ হার্টজের একটি মোশন সেন্সর, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এই সেন্সর বলের গতি, অবস্থান, স্পর্শ এবং গতিপথ সম্পর্কিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠাবে।

এর ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল কিংবা বল স্পর্শসংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দ্রুত ও আরও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকের মতে, এই প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্মার্ট বল প্রযুক্তি প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল ২০২২ বিশ্বকাপে। তবে ট্রাইওন্ডায় সেই প্রযুক্তির আরও উন্নত সংস্করণ যুক্ত করা হয়েছে, যা ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিদের কার্যকর সহায়তা দেবে।

প্রযুক্তিগত দিক ছাড়াও বলটির গঠনেও রয়েছে নতুনত্ব। ট্রাইওন্ডা তৈরি করা হয়েছে মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম প্যানেলযুক্ত বল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যাডিডাসের দাবি, এই নকশা বলের উড্ডয়নকে আরও স্থিতিশীল করবে, নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে এবং গতিপথকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য করে তুলবে। ফলে খেলোয়াড়রা বল নিয়ন্ত্রণ ও পাসিংয়ে বাড়তি সুবিধা পাবেন।

সেন্সরচালিত প্রযুক্তি সচল রাখতে বলটির ভেতরে থাকা চিপ নিয়মিত চার্জ দিতে হয়। পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে পর্দা উঠবে টুর্নামেন্টের, আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।

ফুটবলের ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি ট্রাইওন্ডা শুধু একটি ম্যাচ বল নয়, বরং বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের প্রতীক বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..