গবেষণা

বিশ্বকাপের প্রায় সব ম্যাচেই অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাব পড়তে পারে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৪, | ১৫:২৩:৩৫ |
একটি নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই এমন তাপমাত্রার প্রভাব পড়তে পারে, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আসন্ন বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাজুড়ে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৯৭টিতেই ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮২.৪°ফারেনহাইট)-এর বেশি তাপমাত্রা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই তাপমাত্রা ফুটবলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কমিয়ে দিতে পারে।

ক্লাইমেট সেন্ট্রাল-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন গরমে খেলোয়াড়দের দৌড়ানোর গতি কমে যেতে পারে, স্প্রিন্টের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে, ক্লান্তি দ্রুত আসতে পারে এবং ম্যাচের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। এর ফলে কৌশল, খেলার মান এবং দর্শকদের অভিজ্ঞতাও প্রভাবিত হতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টের প্রায় অর্ধেক ম্যাচে অন্তত ৫০% সম্ভাবনা রয়েছে পারফরম্যান্সে বাধা সৃষ্টিকারী গরম আবহাওয়ার। ২৬টি ম্যাচে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি অন্তত ১০ শতাংশ পয়েন্ট বা তার বেশি বেড়েছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে এই সম্ভাবনা গড়ে প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরের ম্যাচগুলো। বিশেষ করে উরুগুয়ে বনাম স্পেনের ম্যাচটি গুয়াদালাহারায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬৯.৭%—যা জলবায়ু পরিবর্তন না থাকলে অনেক কম হতো।

গুয়াদালাহারা ও মিয়ামির কয়েকটি ম্যাচেও একই ধরনের উচ্চ তাপমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাইনাল ম্যাচ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে প্রায় ৪৬.৬% সম্ভাবনা রয়েছে এমন গরম আবহাওয়ার, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে খেলোয়াড়দের গতি, সহনশীলতা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে। এতে ম্যাচের মান কমে যেতে পারে এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আয়োজকরা কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে—যেমন গরম শহরগুলোতে সন্ধ্যার ম্যাচ রাখা, প্রতি ম্যাচে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক এবং অতিরিক্ত গরমে ম্যাচ সাময়িক বন্ধ রাখার নিয়ম।

তবে বেশিরভাগ স্টেডিয়ামই খোলা হওয়ায় উদ্বেগ রয়ে গেছে। শুধু আটলান্টা, ডালাস ও হিউস্টনের স্টেডিয়ামগুলো পুরোপুরি আবহাওয়া-নিয়ন্ত্রিত।

গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতে শুধু ফুটবল নয়, পুরো বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনকেই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করবে।

সূত্র: জিও নিউজ

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..