সর্বশেষ :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত, বেশিরভাগই বিদেশি ঘরে ঘরে হেলথ স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই নেইমারের ফিটনেস নিয়ে কী বললেন আনচেলত্তি? চূড়ান্ত হলো বিশ্বকাপের ৪৮ দলের স্কোয়াড সাদিও মানেকে নিয়ে ‘ডার্ক হর্স’ সেনেগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা দুই নায়িকার মাঝে শাহিদ, প্রকাশ্যে ‘ককটেল ২’-এর ঝলক কী কারণে থালাপতিকে প্রশংসায় ভাসালেন রাম চরণ? ‘সবাই হাসিমুখে বের হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেত্রী চমক

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

লেবাননের ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ কী, কেন এটি দখল করল ইসরায়েল?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৩, | ১৩:৩১:০০ |

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সম্প্রসারিত সামরিক অভিযানের মধ্যে দেশটির ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ দখল করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। রবিবার এ দখলের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বারবার ওই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধে নিহত ইসরায়েলি সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, গ্যালিলি অঞ্চলের (ইসরায়েলের উত্তরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক পাহাড়ি এলাকা) জনপদগুলোর ওপর নজর রাখায় ব্যবহৃত পাহাড়চূড়াগুলোতে আবারও ইসরায়েলের পতাকা উড়ছে।

কী এই বিউফোর্ট দুর্গ?
আরবিতে ‘কালাত আল-শাকিফ’ নামে পরিচিত বিউফোর্ট দুর্গ দক্ষিণ লেবাননের একটি পাথুরে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত প্রায় ৯০০ বছর পুরোনো একটি দুর্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ মিটার (২,৩০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এই দুর্গটি ১২শ শতকে ক্রুসেডাররা নির্মাণ করে। এটি থেকে লিটানি নদীর ওপর নজরদারি করা যায়।

পুরোনো ফরাসি ভাষায় ‘বিউফোর্ট’ শব্দের অর্থ ‘সুন্দর দুর্গ’। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন শক্তির হাতে গেছে। ক্রুসেডারদের পর এটি বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি এবং পরে অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। উঁচু অবস্থানের কারণে এটি ঐতিহাসিকভাবে অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এ স্থানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতেন। ১৯৮২ সালে লেবাননে আগ্রাসনের সময় ইসরায়েল দুর্গটি দখল করে। পরে দক্ষিণ লেবাননে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা অঞ্চলের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী ২০০০ সাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে।

কেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
লেবাননের পঞ্চম বৃহত্তম শহর নাবাতিয়াহর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত বিউফোর্ট দুর্গ এবং এর আশপাশের রিজ এলাকা দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং উত্তর ইসরায়েলে নজরদারির সুযোগ নেবে।

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো জানান, দুর্গটি থেকে নাবাতিয়াহ শহরের আশপাশের প্রায় সব শহর ও গ্রামের ওপর নজরদারির সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম বেকা উপত্যকা, অধিকৃত গোলান মালভূমি এবং উত্তর গ্যালিলি অঞ্চল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

ওবাইদা হিত্তো আরও বলেন, নতুন এই পর্যবেক্ষণ সুবিধার কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করতে পারে।

দক্ষিণ লেবাননে এখন কী ঘটছে?
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় ৩,৪১২ জন নিহত এবং ১০,২৬৯ জন আহত হয়েছেন। বিউফোর্ট দুর্গ দখলের আগে কয়েক দিন ধরে দুর্গসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল। আল-জাজিরার হিসাব অনুযায়ী, শুধু রবিবারই দক্ষিণ লেবাননে ৩৬টির বেশি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংঘাত তীব্র হলে ইসরায়েল ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বর্গকিলোমিটার (৭৭০ বর্গমাইল) লেবানিজ ভূখণ্ড ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে, যা দেশটির মোট আয়তনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

অভিযান আরও বিস্তারের নির্দেশ
গত সপ্তাহে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের ভেতরে আরও গভীর সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। এটিকে গত ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিবেশী দেশটিতে ইসরায়েলের সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

রবিবার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি আবারও লেবাননে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। গত সোমবার দক্ষিণ লেবাননের সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য জোরপূর্বক স্থানত্যাগের নির্দেশ জারি করে ইসরায়েল। এসব গ্রামের মধ্যে রয়েছে হৌমিন আল-ফাউকা, বনাফৌল, আরব সালিম, রুমিন, আজ্জে, আরকে এবং জাবা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..