✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০২, | ১৮:২৭:০৮ |রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত অন্যতম বড় তেল শোধনাগার ইলস্কিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ১ জুন রাত থেকে ২ জুন ভোরের মধ্যে চালানো এই হামলাটি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক আঘাতের সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্রাসনোদার অঞ্চলে অবস্থিত ইলস্কি শোধনাগারকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পরই সেখানে আগুন লাগে। একই সঙ্গে কাছের শহর স্লাভিয়ানস্ক-না-কুবানে একটি আবাসিক ভবনের এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ইলস্কি শোধনাগার দক্ষিণ রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। বছরে প্রায় ৬৬ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে এর। এটি শুধু বেসামরিক খাতে নয়, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই শোধনাগারে অন্তত ১৬ বার হামলা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও একটি বড় হামলায় সেখানে আগুন লাগে এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয়।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা এক রাতেই ১৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চল—যেমন বেলগোরোদ, ব্রিয়ানস্ক, কুরস্ক, রস্তভ, স্মোলেনস্ক, ভলগোগ্রাদ এবং ক্রাসনোদার—এবং কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছিল।
ক্রমাগত এই হামলার প্রভাব জ্বালানি খাতেও পড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়ার দৈনিক তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে। এটি এপ্রিলের তুলনায় কম এবং বছরের শুরু থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেল শোধনাগারগুলোতে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে শুধু রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।