সর্বশেষ :
উড়ন্ত আমেরিকাকে মাটিতে নামাল ইরান, স্যাটেলাইটে মিলল ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৫ লেবাননে যুদ্ধবিরতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তি নয়: ইরান বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তরুণ পাইলটের মৃত্যু ট্রাম্পের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে নতুন নতুন সংকটের সৃষ্টি: বিশ্লেষক বিএনপির সঙ্গে নেগোসিয়েশনের অভিযোগ, যা বললেন তাসনিম জারা স্ত্রীর ভয় উপেক্ষা করে ‘সিরিয়াল কিসার’ হয়েছিলেন ইমরান হাশমি কানাডার সদস্যপদ স্থগিত করল আইসিসি ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১১০ জন ভালুকায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার

‘আকাশি সাদা’ জার্সি কীভাবে আর্জেন্টিনার হলো?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০১, | ১৭:৫৪:০৭ |
আকাশের ‘আকাশি’ আর মেঘের ভেলার ‘সাদা’ রঙ-এ দুইয়ে মিলেই আর্জেন্টিনার ট্রেডমার্ক জার্সি। ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সির মাহাত্ম্য খোদ ফুটবলার থেকে শুরু করে সমর্থক-সবার কাছেই অন্য রকম এক আবেগ।

আর্জেন্টিনার জার্সি প্রস্তুত করে থাকে জার্মানির ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। মাঝের তিন বছর (১৯৯৯-২০০১) বাদ দিয়ে বিশ্ব বিখ্যাত এই ব্র্যান্ডের জার্সি গায়ে দিয়ে সেই ১৯৯০ বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত খেলে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।

আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্বভাবতই আর্জেন্টিনার চিরাচরিত নকশা রাখা হয়েছে তাদের জার্সিতে। যেখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা নকশা। এ ছাড়া আলবিলেস্তেদের শিরোপাজয়ী ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ তিন আসরে পরিহিত জার্সির সঙ্গে এর সমন্বয় করা হয়েছে।

১৯৩০ বিশ্বকাপ থেকেই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের গায়ে শোভা পেত এই আকাশি-সাদা জার্সি। তবে তখন জার্সির সঙ্গে শোভা পেত ঘন নীল রঙের শর্টস। ১৯৭৮ বিশ্বকাপের পর থেকে গাঢ় নীল শর্টস বাদ দিয়ে কালো শর্টস পরে খেলা শুরু করেন দেশটির ফুটবলাররা।



১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দিয়োগো ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’। সেবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ওই আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরে নামতে হয়েছিল। মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইনদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা। আকাশি-সাদা ডোরাকাটা মূল জার্সিতে খুব একটা সমস্যা নেই। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তো আর সেই জার্সিতে নামা যাবে না, তাই পরতে হবে গাঢ় নীল রঙের দ্বিতীয় জার্সি। কিন্তু তা নিয়েই বিপত্তি।

অতিরিক্ত গরমের মধ্যে সে জার্সি গায়ে চাপানোই কষ্টকর হয়ে ওঠে। পাতলা কাপড়ের নতুন জার্সি বানানোরও হাতে সময় ছিল না। তৎকালীন কোচ কার্লোস বিলার্দো সহকারীকে পাঠালেন মেক্সিকো সিটির দোকান ঘুরে যদি কোনো নীল রঙের একটু আরামদায়ক কাপড়ের জার্সি পাওয়া যায়। সহকারী কোচ রুবেন মোশেল্লা হাজির হলেন অপেক্ষাকৃত দুটি পাতলা জার্সি নিয়ে। সেখান থেকে অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনা একটি হাতে নিয়ে বললেন, ‘এটা গায়ে জড়িয়েই আমরা ইংল্যান্ডকে হারাব।’

সেই দোকান থেকেই আরও ৩৮টি ওই রকম জার্সি কিনে আনা হলো। তড়িঘড়ি করে প্রতিটিতে সেলাই করে লাগানো হলো আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাজ। কয়েক ঘণ্টা পরে সেই জার্সি গায়েই মাঠে নামল আর্জেন্টিনা দল। আর সেদিনের সেই কোয়ার্টার ফাইনালে কী হয়েছিল তা তো আর বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই! ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড আর গোল অব দ্য সেঞ্চুরি—দুটো গোলেই ইতিহাস হয়ে আছে মেক্সিকোর গলি-ঘুপচি ঘুরে বের করে আনা সেই গাঢ় নীল রঙের পাতলা জার্সি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..