টেনিস কোর্টে রাফায়েল নাদাল সবসময়ই ছিলেন এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যোদ্ধা, যিনি প্রতিটি পয়েন্ট জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করতেন। ২০২৪ সালে অবসর নেওয়া এই স্প্যানিশ কিংবদন্তি ২২টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতে টেনিস ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে গেছেন।
তবে এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘদিনের তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত একটি ডকুমেন্টারিতে ৩৯ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা জানিয়েছেন এই তথ্য।
নাদাল জানান, শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছাতে গিয়ে তাকে নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে বহু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে স্বাস্থ্যের ব্যাপারে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, যা সঠিক ও ভুলের একদম শেষ সীমানায় ছিল। কিন্তু আমি যদি সেই চরম ঝুঁকিগুলো না নিতাম, তবে আজ আমার নামের পাশে ১০ থেকে ১২টি গ্র্যান্ড স্লাম কম থাকত। এটিই বাস্তব সত্য।’
২০০৫ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে বিশ্ব টেনিসে আলোড়ন তোলেন নাদাল। কিন্তু সেই সময়ই মাদ্রিদ ওপেনের পর তার বাঁ পায়ের গুরুতর সমস্যা ধরা পড়ে, ‘মুলার-উইস সিন্ড্রোম’ নামের একটি বিরল রোগ। চিকিৎসকেরা তখন আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি হয়ত আর পেশাদার টেনিসে ফিরতে পারবেন না।
তবে বিশেষ ইনসোল ব্যবহার করে খেলায় ফিরলেও তা তার শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে, যার কারণে ২০১২ সালে তার বাঁ হাঁটুর টেন্ডনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। ছোটবেলা থেকেই তার কাকা ও কোচ টনি নাদালের কঠোর প্রশিক্ষণ তার মানসিক শক্তি গঠনে ভূমিকা রাখে। এমনকি শৈশবে অনুশীলনের সময় দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার নিয়ম মানতে হতো এবং আঙুল ভেঙে গেলেও তিনি প্লাস্টার নিয়েই খেলেছেন।
তার দীর্ঘদিনের ফিজিও রাফায়েল মেমো বলেন, ‘নাদাল সম্ভবত কষ্ট পেতেই ভালোবাসতেন, যাতে সেই কষ্টকে জয় করার আনন্দটা উপভোগ করা যায়।’
ক্যারিয়ারের শেষদিকে ২০১৬ সালে তিনি কার্লোস মোয়াকে কোচিং স্টাফে যুক্ত করেন, যার ফলে তার কাকা টনির সঙ্গে পেশাদার সম্পর্কের ইতি ঘটে। এরপরই নাদাল তার শেষ আটটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জেতেন। নাদাল নিজেও বলেন, ‘মোয়া আসার পর ক্যারিয়ারের শেষ বছরগুলো আমি কিছুটা স্বাধীন ও মুক্ত মনে উপভোগ করতে পেরেছিলাম।’
এ জাতীয় আরো খবর..