✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-৩০, | ১৮:৪১:২৫ |সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪-২ গোলে জয় পেলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মাঠের পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না। তবে আগামীকাল গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের রণকৌশলে বড় পরিবর্তন আনছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট নেপালকে এড়াতে হলে এই ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। ড্র কিংবা হারলে রানার্সআপ হিসেবেই শেষ চারে পা রাখতে হবে সাবিনাদের। অবশ্য অতীত ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে, কারণ গত দুটি সাফেই ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই চেনা আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে এবার ভারতের বিপক্ষে প্ল্যান ‘এ’ এবং প্ল্যান ‘বি’; উভয় কৌশল নিয়েই মাঠে নামার প্রস্তুতি সেরেছে দল।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে আজ সকালে জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম সংলগ্ন ডন বক্সো কলেজ মাঠে নিবিড় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। মালদ্বীপ ম্যাচে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় দুটি গোল হজম করতে হওয়ায় আজ ডিফেন্স লাইনের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে বাড়তি কাজ করেছেন কোচ পিটার বাটলার। বাংলাদেশের জন্য বড় সুখবর হলো, ভারতের বিপক্ষে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রক্ষণে ফিরছেন অভিজ্ঞ শিউলি আজিম এবং মাঝমাঠ সামলাতে ফিরছেন মনিকা চাকমা।
অনুশীলনে কোচ খেলোয়াড়দের মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ছক, শুটিং, কর্নার ও ফ্রিকিকসহ সব ধরনের কৌশলেরই মহড়া করিয়েছেন। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ জানান, এই ম্যাচটি দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে মাঠে নিজেদের প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ করে দেবে। একই সাথে তিনি মালদ্বীপ ম্যাচের ভিডিও অ্যানালাইসিস করে ভারতের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর থেকে চাপ কমাতে কোচ বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। বাটলারের মতে, মালদ্বীপের চেয়ে এই অঞ্চলের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটাই নিজেদের সামর্থ্য পরীক্ষা করার আসল মঞ্চ। দলে উমেলাহ, প্রীতি, সাগরিকা, মৌমিতা ও অর্পিতার মতো একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার উঠে আসায় দলের ভেতরেই সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যা দলের জন্য ইতিবাচক। মালদ্বীপ ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের মাঝে কিছুটা হতাশা কাজ করলেও আজকের অনুশীলনে তাদের বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে। কোচ স্পষ্ট করেছেন যে, বিগত ম্যাচে ৮০ শতাংশ বল পজিশন ধরে রেখেও সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণেই মেয়েরা কিছুটা হতাশ ছিল, তবে তারা মানসিকভাবে পিছিয়ে নেই। একই সাথে ভারতের বিপক্ষে শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তনের আভাসও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
সেমিফাইনালে নেপালকে এড়ানোর সমীকরণ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ব্রিটিশ এই কোচ তার স্বভাবসুলভ চেনা মেজাজেই উত্তর দেন। তিনি জানান, প্রতিপক্ষ হিসেবে নেপাল বা ভারত কে আসছে, তা নিয়ে তিনি মোটেও বিচলিত বা ভীত নন। টুর্নামেন্ট জিততে হলে যেকোনো পর্যায়ে সেরা দলের মুখোমুখি হতেই হবে এবং তিনি প্রতিটি ম্যাচকে আলাদাভাবে দেখতেই পছন্দ করেন। ম্যাচটি সেমিফাইনালের আগে দলের আত্মবিশ্বাস জোগাতে সাহায্য করবে এবং খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।