১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটিতে এবার ক্লাবের হিসাবে সর্বোচ্চ চারজন ফুটবলার অন্তর্ভুক্ত হলেন ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে। এমন দৃশ্য দেখা গেল ৩০ বছর পর। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও পাওলো থেকে সর্বোচ্চ চারজন ফুটবলার প্রতিনিধিত্ব করেন স্কোয়াডে।
ওই আসরে সাও পাওলোর গোলরক্ষক জেত্তি, ডিফেন্ডার কাফু ও লিওনার্দো এবং ফরোয়ার্ড মুলার ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন। এরপর বিদেশি ক্লাব হিসেবেও চারজন প্রতিনিধির নজির আছে, ২০০৬ সালে রিয়াল মাদ্রিদ এবং ২০১৮ সালে ম্যানচেস্টার সিটি ওই কীর্তি গড়েছিল। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতেও ফ্লামেঙ্গো ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোর মধ্যে অন্যতম বেশি প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, বিশেষ করে ১৯৯৮, ২০১০ ও ২০২২ সালে।
এদিকে, ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপের জন্য ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় ফ্লামেঙ্গোর সাতজন খেলোয়াড় ছিলেন। তবে চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি লিও অর্টিজ, সামুয়েল লিনো ও পেদ্রোর। ওই ক্লাব থেকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে আছেন– ডিফেন্ডার অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো ও লিও পেরেইরা এবং মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। এ ছাড়া দুজন করে জায়গা পেয়েছেন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আর্সেনাল থেকে।
১৯৫৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ফ্ল্যামেঙ্গোকে বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলে চারজন খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিত্ব এনে দিলো। ওই সময় সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফ্লামেঙ্গো থেকে জাগালো, দিদা, জোয়েল ও মোয়াসির ডাক পেয়েছিলেন। ‘ওল্ড উলফ’-খ্যাত জাগালো ফাইনালে শুরুর একাদশে ছিলেন, যেখানে ব্রাজিল স্বাগতিকদের ৫-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’র তথ্যমতে– ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্লামেঙ্গোর মোট প্রতিনিধির সংখ্যা ৯ জন পর্যন্ত হতে পারে। উরুগুয়ের হয়ে মেগা ইভেন্টটিতে খেলতে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আরাসকাইতা, ভারেলা ও দে লা ক্রুজের। কলম্বিয়ার হয়ে থাকতে পারেন কারাসকাল এবং ইকুয়েডরের জার্সি গায়ে জড়াতে পারেন প্লাতা।
প্রসঙ্গত, গতকাল মধ্যরাতে রিও ডি জেনেইরোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মিউজিয়াম অব টুমরোতে বড় আয়োজনে দল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সাবেক ফুটবলার ও কর্মকর্তাসহ ফুটবল বিশ্বের বহু ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। ১৩টি দেশের সাংবাদিকসহ ৬০০-এর বেশি সংবাদকর্মী অনুষ্ঠানটি কভার করেন। আগামী ২৭ মে থেকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করবেন স্কোয়াডে থাকা ফুটবলাররা। তবে পিএসজি ও আর্সেনালের যারা স্কোয়াডে আছেন, তারা ৩০ মে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলে আসবেন। ফাইনাল ম্যাচটি হবে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে।
এ জাতীয় আরো খবর..