টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দায়িত্ব যাচ্ছে আইসিসি বোর্ডে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৮, | ১৩:২৪:৫১ |

চলতি মাসের শেষ দিকে ভারতের আহমেদাবাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলেল(আইসিসি) একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তী সভায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ(ডব্লিউটিসি)-এর পুনর্গঠন নিয়ে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এর মধ্যে ডব্লিউটিসি-এর পুনর্গঠন বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ২১ মে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিতব্য চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটি (সিইসি) এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিইসি সভার আলোচ্যসূচিতে পুরুষদের ক্রিকেটের বিষয়ে এজেন্ডা নেই। তবে নারী ক্রিকেট সম্পর্কিত একটি বিষয় রয়েছে, পাশাপাশি ডেটা মনিটাইজেশন এবং মোবাইল গেমিং-এর মতো দুটি বাণিজ্যিক বিষয়ও স্থান পাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডব্লিউটিসি-এর পুনর্গঠনের বিষয়টি বোর্ডের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামী ৩০ ও ৩১মে আহমেদাবাদে বৈঠকে বসবে এবং রজার টুসের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কিং গ্রুপের সুপারিশগুলোর ওপর যেকোনো সিদ্ধান্ত সর্বশক্তিমান পরিচালকরাই নেবেন। জানা গেছে, ওয়ার্কিং গ্রুপটি ডব্লিউটিসি চক্রে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়েকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে এবং চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে একটি টেস্ট সিরিজ অন্তর্ভুক্ত করারও পরামর্শ দিয়েছে।

এক্ষেত্রে এই সুপারিশগুলো গ্রহণ করা বেশ কঠিন বলে মনে হচ্ছে। কেননা আফগানিস্তান—যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে যুক্ত নয়—তাত্ত্বিকভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর বিরুদ্ধে এক-অফ টেস্ট খেলে শতাংশ-পয়েন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে ডব্লিউটিসি টেবিলে ভালো ফল করতে পারে।

যদিও আফগানদের জন্য ভারতকে হারানো এখনও কঠিন হতে পারে, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ের মতো অন্য কিছু দল তাদের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি নাও করতে পারে। এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ডব্লিউটিসি-কে নয় থেকে বারো দলে সম্প্রসারণের বিষয়টি সুদূরপ্রসারী বলেই মনে হচ্ছে।

এদিকে আইসিসি ডেটা মনিটাইজেশনের জন্য অলিভার ওয়াইম্যানকে নিযুক্ত করেছে এবং মোবাইল গেমিংয়ের বিষয়টিও হাতে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়টিকে ঘিরে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কারণ কানাডা, উগান্ডা এবং নামিবিয়ার মতো কিছু সহযোগী বোর্ড এবং অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পূর্ণ সদস্য দেশগুলো ও আফগানিস্তানের কিছু খেলোয়াড়—ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)-এর সঙ্গে যুক্ত। তাই সংস্থাটির সঙ্গে আইসিসি যুক্ত হতে আগ্রহী নয়।

এদিকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)-এর বিলুপ্তি এবং একটি বিশেষ ক্রীড়া আইনের অধীনে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রীর নিযুক্ত অন্তর্বর্তীকালীন সংস্থার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে আইসিসির একটি প্রতিনিধিদল শ্রীলঙ্কা সফর করেছে। আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া(বিসিসিআই)-এর সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। যিনি শাম্মি সিলভার নেতৃত্বাধীন এসএলসি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের নির্দেশ দিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ট্রান্সফরমেশন কমিটি নামে অন্তর্বর্তীকালীন সংস্থাটির প্রধান হলেন এরান বিক্রমরত্নে। এই প্যানেলে রোশন মহানামা, সিদাথ ওয়েত্তিমুনি এবং কুমার সাঙ্গাকারার মতো প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বরাও রয়েছেন।

এদিকে বোর্ড সভায় অংশ নিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে নাকভি ভার্চুয়ালি বোর্ড সভায় যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..