✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৫, | ১৫:৪৮:৩১ |ভারতের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়েছেন কেরলের ১৯ বছর বয়সী কাজিয়া লিজ মেজো। ৫২ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি জিতে নিয়েছেন ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর মুকুট। জয়পুরে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীর মুকুট ওঠে তার মাথায়।
এই জয়ের ফলে আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠেয় ৭৫তম ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কাজিয়া। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক মঞ্চে এবার দেশের হয়ে লড়বেন তিনি।
কেরলের মাভেলিকারার বাসিন্দা কাজিয়া বর্তমানে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তবে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে এটিই তার প্রথম বড় সাফল্য নয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘মিস টিন ডিভা ২০২৪’ খেতাব জেতেন কাজিয়া। পরের বছর ‘মিস টিন ইন্টারন্যাশনাল’-এ অংশ নিয়ে হন প্রথম রানারআপ। চলতি বছর ‘মিস ইউনিভার্স কেরল’ নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত ৫২ প্রতিযোগীকে টপকে নিজের করে নেন কাঙ্ক্ষিত মুকুট।
জাতীয় পর্যায়ের এই জয় কাজিয়ার জন্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে একটি ঐতিহাসিক কারণে। কেরলের প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ খেতাব জিতেছেন তিনি। এর আগে এই রাজ্যের কোনো প্রতিযোগী এই শিরোপা অর্জন করতে পারেননি। শুধু মডেলিং নয়, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কাজিয়া। তিনি প্রশিক্ষিত শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী এবং প্রায় ১২ বছর ধরে নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পাশাপাশি ড্রামস ও ভায়োলিন বাজাতেও পারদর্শী। অভিনয়ের প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে। মালয়ালম সিনেমা ‘শাইলক’-এর মাধ্যমে অভিনয়েও অভিষেক হয়েছে তার।
২০০৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে জন্ম কাজিয়ার। শৈশবের বড় একটি সময় সেখানেই কেটেছে। আবুধাবির একটি স্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি কেরলে ফিরে আসেন এবং সেখানেই নিজের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুরু করেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন তামিলনাড়ুর বৈষ্ণবী গণেশ। দ্বিতীয় রানারআপের মুকুট পেয়েছেন গুজরাটের অনুশ্রী সাতাভেলকর। একই আয়োজনে ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া’ খেতাবও জিতেছেন অনুশ্রী। অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ মণিকা বিশ্বকর্মা নতুন বিজয়ী কাজিয়ার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন।
শিরোপা জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাজিয়া বলেন, এই মুহূর্তটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। গত তিন বছর ধরে তিনি এই অর্জনের জন্য প্রস্তুতি ও পরিশ্রম করেছেন। অবশেষে মুকুটটি কেরলে নিয়ে যেতে পারাটাকেই নিজের সবচেয়ে বড় আনন্দ বলে উল্লেখ করেন তিনি।