✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৫, | ১৫:৪৫:১২ |বিশাল মঞ্চ, এলইডি লাইট, লেজার শো, সঙ্গে পুরো ট্যুরিং দল- সব মিলিয়ে বড়সড় এক কনসার্টের প্রস্তুতি। কিন্তু মঞ্চে উঠে মার্কিন সংগীতশিল্পী একন দেখলেন, দর্শক মাত্র তিনজন! তাও আবার তাদের একজনের অনুরোধে টানা এক ঘণ্টা একই গান গেয়ে পেয়েছেন ১০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কোটি টাকারও বেশি।
সম্প্রতি ‘ফ্ল্যাগর্যান্ট’ পডকাস্টে নিজের ক্যারিয়ারের এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন একন। মধ্যপ্রাচ্যের এক ধনী পরিবারের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের এক মেয়ে একনের ভক্ত হওয়ায় তার বিশেষ অনুরোধেই আয়োজন করা হয় কনসার্টটির।
অনুষ্ঠানের জন্য একনকে আনতে পাঠানো হয়েছিল বিশেষ একটি ৭৪৭ উড়োজাহাজ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ছিল শোবার ঘর, গোসলের ব্যবস্থা, গেম রুম ও থিয়েটার। এত আয়োজন দেখে তার ধারণা হয়েছিল, অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দর্শক থাকবেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো চিত্রই বদলে যায়। বিশাল একটি হল, বড় মঞ্চ, এলইডি লাইট ও লেজার- সবই প্রস্তুত। অথচ দর্শকদের জন্য রাখা ছিল মাত্র তিনটি চেয়ার। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন পরিবারের তিন সদস্য- মেয়ে, ছেলে ও স্ত্রী।
একন জানান, নির্ধারিত পরিবেশনা শুরু করার পর মাঝপথে ওই তরুণী তাকে থামিয়ে ‘মিস্টার লোনলি’ গানটি গাওয়ার অনুরোধ করেন। গানটি শেষ হতেই আবারও একই গান শুনতে চান তিনি। এভাবে এক ঘণ্টাজুড়ে বারবার শুধু ‘মিস্টার লোনলি’ গানটিই গাইতে হয় একনকে। বিষয়টি বলতে গিয়ে একন রসিকতা করে বলেন, তাকে যেন সিডি প্লেয়ারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল। এত বড় আয়োজনের বিপরীতে মাত্র তিনজন শ্রোতার সামনে একই গান বারবার গাওয়ার অভিজ্ঞতাকে ক্যারিয়ারের অন্যতম অদ্ভুত ঘটনা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
একনের দাবি, তার পারিশ্রমিক ও মঞ্চসজ্জাসহ পুরো আয়োজনটিতে প্রায় ৫০ লাখ ডলার খরচ হয়েছিল। পরে তিনি মজা করে বলেন, আগে থেকে অনুষ্ঠানের ধরন জানানো হলে আয়োজকদের এত অর্থ খরচ করতে হতো না। তার বদলে অর্ধেক পারিশ্রমিক নিয়েই পরিবারের বসার ঘরে গিয়ে এক ঘণ্টা কারাওকে করতে পারতেন।
২০০৪ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘ট্রাবল’ প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে পরিচিতি পান সেনেগালিজ-আমেরিকান এই শিল্পী। ‘লকড আপ’ ও ‘লোনলি’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর ‘স্ম্যাক দ্যাট’, ‘আই ওয়ানা লাভ ইউ’, ‘ডোন্ট ম্যাটার’, ‘বিউটিফুল’ ও ‘রাইট নাউ (না না না)’-এর মতো একাধিক হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি। সংগীতের পাশাপাশি প্রযোজনা ও ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত একন।