✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

ইরানের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে বাজারে আসছে তার চেয়েও সস্তা ‘মার্কিন ড্রোন’

ইরানের শাহেদ ড্রোন ও ফ্লোরিডাভিত্তিক মার্কিনি ড্রোন (ডানে)। সংগৃহীত ছবি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৫, | ১৫:৪৪:১৩ |

ইরানের সস্তা ড্রোন মোকাবিলায় আরও কম খরচের প্রতিরক্ষা ড্রোন তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারাস’। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কারখানায় থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ‘গার্ডিয়ান’ নামের এসব ড্রোন উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি ড্রোনের দাম পড়ছে প্রায় ৫ হাজার ডলার।

জানা গেছে, ‘গার্ডিয়ান’ নামের এই  ‘মার্কিন ড্রোন’ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ মাইল গতিতে উড়তে পারে। লেগোর মতো সহজে জোড়া লাগানোর উপযোগী করে নকশা করা এই ড্রোনের মূল লক্ষ্য আকাশেই ইরানের শাহেদ ড্রোন ধ্বংস করা। 

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে নকশা ও উৎপাদন পদ্ধতিতে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে এসব ড্রোন তৈরিতে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর বেসামরিক অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দ্রুত ও কম খরচে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। সেই চাহিদা পূরণে প্রচলিত ধীরগতির প্রতিরক্ষা উৎপাদনব্যবস্থার বাইরে গিয়ে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে পাওয়ারাস।

আমিরাতের কারখানায় বর্তমানে ফিলিপাইন ও চীন থেকে আসা কর্মীরা প্রতিদিন প্রায় ৩০টি ড্রোন তৈরি করছেন। উৎপাদন সক্ষমতা প্রতিদিন ১০০টি ড্রোনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে কারখানার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ প্রতি মাসে ১৫ হাজার ড্রোন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পাওয়ারাস।

মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর সুরক্ষায় সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ২০ লাখ ডলারের একটি চুক্তিও করেছে। পাশাপাশি ভারতের মুম্বাইয়ের কাছাকাছি এলাকায় একই ধরনের ড্রোন উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে তারা।

কম খরচে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের এই প্রবণতা বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুত অস্ত্র সরবরাহের চাপের মধ্যে লকহিড মার্টিন ও রেথিয়নের মতো প্রতিষ্ঠানও কম ব্যয়ে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ হাজার ডলারের গার্ডিয়ান ড্রোন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম নয়। তবে ইরানের শাহেদ ড্রোনের মতো তুলনামূলক কম খরচের আকাশযান মোকাবিলায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণেও এ ধরনের ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরানের শাহেদ সিরিজের ‘কামিকাজে’ ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে এক ভয়ংকর আতঙ্ক। এর রয়েছে জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন, রাডার এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং ৪০ থেকে ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা। মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার খরচে একেকটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করা যায়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় এসব ড্রোনের বেশির ভাগ ভূপাতিত করা হলেও ইরানের জন্য তা একধরনের জয় হিসেবে ধরা হয়েছে। কারণ, মাত্র ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের শক্তিশালী রকেট খরচ করতে হয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..