✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৪, | ০১:০৩:৪৭ |যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যদি কোনো দেশ যোগ দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিশোধ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মাসের পর মাস ধরে চলা এই সংঘাত অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, যেকোনো দেশ আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে অংশ নিলে, তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধে শামিল হয়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। এমনকি হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথগুলোও নিরাপদ থাকবে না।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বিকল্প পথ বলতে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মানদেব প্রণালিকে বোঝানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালি অবরোধের পর সৌদি আরব এই পথটিই তেল রপ্তানির জন্য ব্যবহার করে আসছে।
এদিকে, এই হুমকির দুই দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও এই হুঁশিয়ারির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, হয় আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন, নয়তো বিপক্ষে। তিনি এ বিষয়ে চীনেরও সহযোগিতা চেয়েছেন, যারা ইরানের ৮০ শতাংশ তেলের ক্রেতা।
অন্যদিকে, রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল এই আগ্রাসনের মাধ্যমে তারা ইরানের পতন ঘটিয়ে দেশটিকে ভেনেজুয়েলার মতো বানিয়ে ফেলবে। কিন্তু উল্টো ইরান নিজের ঐক্য ও প্রতিরোধ দিয়ে গোটা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে।
ক্লিনগেনডেল ইনস্টিটিউটের গবেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, ইরান হয়তো আগেভাগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তারা বোঝাতে চাইছে, হামলার প্রস্তুতির সামান্য লক্ষণও ইরানের দিক থেকে ভয়াবহ প্রতিশোধের কারণ হতে পারে।