সর্বশেষ :
ইরানে ঐক্য দেখে গোটা বিশ্ব বিস্মিত, শত্রুর হিসাব উল্টে গেছে : পেজেশকিয়ান অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম থেকে উঠবেন যেভাবে রক্ত পরীক্ষাতেই জানা যাবে শরীরের কোন অঙ্গ কতটা ‘বুড়িয়ে’ গেছে! ট্রাম্পের ইরান হামলার পর পরমাণু অস্ত্র অর্জনের কথা ভাবছে অনেক দেশ : তেহরান ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন সুনীল গাভাস্কাররা ইরানে গ্যাসের বিপুল মজুত আবিষ্কার, সম্ভাব্য মূল্য ‘দশ বিলিয়ন ডলার’ নভোচারীর ক্যামেরায় ধরা পড়ল আলোর জাদুকরী খেলা লালচে বিড়ালকে পদবি দিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ, নাম দিল ‘চিফ ফেলিন অফিসার’ গ্রীষ্মে ফ্রান্সে পানিতে ডুবে মৃত্যু ৩০১, এক বছরে বেড়েছে ১৪ শতাংশ স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হচ্ছে, বন্ধ করুন এই ৫ সেটিংস

রাশিয়ায় এখন ব্ল্যাক আগস্ট, তবে গ্রীষ্মের এই সংকট এড়িয়ে যাচ্ছেন পুতিন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৪, | ০১:০১:৩৬ |

গত কয়েক দশক ধরে সাংবাদিকতার ভাষায় রাশিয়ায় ‘কালো আগস্ট’ বা ‘আগস্টের অভিশাপ’ বলে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে। গ্রীষ্মের শেষ সপ্তাহগুলোতে হওয়া বড় অনাকাঙ্ক্ষিত ও নাটকীয় সংকট বোঝাতে মূলত শব্দটি ব্যবহার করা হয়। সাম্প্রতিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আগস্ট মাসে রাশিয়ায় সত্যিই অনেক অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্ম হয়েছে।

রাশিয়ায় এবারের গ্রীষ্মকালটিও যেন একটি বিষণ্ণ অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনে রুশ সেনাদের অগ্রগতি তেমন চোখে পড়ার মতো নয়। উল্টো তেল শোধনাগার এবং ই-কমার্স গুদামে ইউক্রেনের হামলায় আকাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি পাম্পে মানুষের দীর্ঘ সারি আর নতুন করে সেনা সমাবেশের গুজবে সাধারণ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

অনেকের মনেই প্রশ্ন—এটিও কি আরেকটি ‘কালো আগস্ট’? ৩৫ বছর আগে এই আগস্টেই মিখাইল গর্বাচেভের বিরুদ্ধে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থান হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের আগস্টে দেশটিতে বড় ধরনের আর্থিক সংকট দেখা দেয়। আবার ১৯৯৯ সালে শুরু হয় চেচেন যুদ্ধ, যার মাধ্যমে ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে আসেন।

ক্ষমতায় আসার পরও পুতিনের জন্য আগস্ট খুব একটা স্বস্তির ছিল না। ২০০০ সালের আগস্টে সাবমেরিন ‘কুরস্ক’ ডুবে ১১৮ জন নাবিক মারা যান। ২০০৮ সালেও প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় দেশটি।

নির্বাসিত ধারাভাষ্যকার ইলিয়া ভারলামভের মতে, অর্থনীতি এখন অনেকটাই সংকটে। জ্বালানি সমস্যা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। তবুও রাষ্ট্রপ্রধান বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, হামলার বড় কোনো প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে না। সরকার দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত গুদাম পুনর্নির্মাণ করবে। তবে সাধারণ মানুষের পকেটে এর প্রভাব ঠিকই পড়ছে।

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনেও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের দাবি উঠলেও সামরিক আইনের কারণে সেখানে তা স্থগিত রয়েছে। তারপরও দেশটিতে গণতান্ত্রিক চর্চা বেশ সচল।

তবে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে পুতিনের দেশে। বিরোধী রাজনীতিকদের লম্বা সময়ের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারাবন্দী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যুর পর সেখানের সুশীল সমাজ যেন একেবারেই নীরব হয়ে গেছে। কাকতালীয় হলেও সত্যি, নাভালনিও ২০২০ সালের এক আগস্টেই বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে রাশিয়ায় আগস্ট এক কঠিন সময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..