রাজধানীর সবচেয়ে বড় গবাদি পশুর হাট গাবতলীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু, মহিষ, ভেড়া, দুম্বা ও খাসি নিয়ে এসেছেন ব্যাপারীরা। হাটে ছোট-বড় গরু উঠলেও এখন পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে কসবা থেকে আনা দুটি বিশাল গরু, যাদের ‘কালা জামাই’ ও ‘সাদা জামাই’ নামে পরিচিত করাচ্ছেন বিক্রেতা।
হাটে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল দেহের এই গরু দুটি, যেগুলো দেখতে ভিড় করছেন অনেকে। আবার অনেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিচ্ছেন
সরেজমিন দেখা যায়, হাটে ১ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে ভিন্ন এক দৃশ্য। প্রবেশ পথের কাছেই রাখা রয়েছে দুটি বিশাল গরু, যেগুলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড়। দূর থেকেই অনেকে থেমে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ কাছে গিয়ে গরুর ওজন ও দাম সম্পর্কে জানতে চাইছেন।
আরো দেখা যায়, গরু দুটির আশপাশে সব সময়ই মানুষের উপস্থিতি লেগে আছে। হাটের এই অংশটি যেন মুহূর্তেই কৌতূহলের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ততার মধ্যেও গরু দুটিকে শান্ত রাখতে সঙ্গে থাকা পরিচর্যাকারীরা নিয়মিত পানি দিয়ে গা মুছিয়ে দিচ্ছেন। গরমে কোনো অস্বস্তি না হয় সেজন্য উপরে ও নিচে পাখা লাগানো রয়েছে। কিছুক্ষণ পরপরই বোতল দিয়ে পানি দিয়ে গামছা ভিজিয়ে গরু দুটিকে মুছতে দেখা যায়। পরিচর্যাকারীদের এই ব্যস্ততার মধ্যেও চারপাশে চলছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আলোচনা। কেউ গরুর আকার দেখে অবাক হচ্ছেন, কেউ আবার দাম শুনে হিসাব মেলাতে ব্যস্ত।
বিক্রেতারা জানান, গরু দুটি দীর্ঘ সময় ধরে যত্ন করে বড় করা হয়েছে। ‘কালা জামাই’কে প্রায় ৫ বছর এবং ‘সাদা জামাই’কে প্রায় ৩ বছর লালন-পালন করা হয়েছে। আরো জানান, ‘কালা জামাই’র ওজন প্রায় ১৫৫০ কেজি এবং ‘সাদা জামাই’র ওজন প্রায় ১৩০০ কেজি। এই বিশাল আকৃতির কারণেই দামও চাওয়া হচ্ছে বিশাল। ‘কালা জামাই’ এর জন্য ৩০ লাখ টাকা এবং ‘সাদা জামাই’ এর জন্য ২৫ লাখ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে।
গরু দুটির মালিক হাজি ইয়াকুব মিয়া হলেও হাটে বিক্রির দায়িত্বে রয়েছেন মো. মামুন। তিনি বলেন, গরুগুলোর নাম রাখার পেছনে রয়েছে এক ধরনের আবেগ। জামাই যেমন পরিবারের কাছে আদরের, তেমনি এই গরু দুটিও অনেক যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে বড় করা হয়েছে। তাই আদরের জায়গা থেকেই ‘কালা জামাই’ ও ‘সাদা জামাই’ নাম দেওয়া হয়েছে তাদের।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত গরু দুটির জন্য কোনো বড় ধরনের ক্রেতা এগিয়ে আসেননি। তবে হাটে প্রচুর মানুষ ভিড় করলেও বেশিরভাগই শুধু দেখতে ও ছবি তুলতেই আসছেন। দাম শুনে অনেকেই কিছুটা অবাক হচ্ছেন এবং সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।
তবে বিক্রেতাদের আশা, কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বড় ও ব্যতিক্রমী গরুর চাহিদা বাড়বে। শেষ মুহূর্তে ভালো কোনো ক্রেতা পাওয়া যাবে বলেই তারা আশাবাদী।
এ জাতীয় আরো খবর..