✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৬, | ১৯:৩৬:৪৮ |ভারতের অনুসন্ধানী সংবাদ ম্যাগাজিন ‘তেহেলকা’র সাবেক সম্পাদক তরুণ তেজপালকে সহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ। একই সঙ্গে ২০২১ সালে নিম্ন আদালতের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আদালত তেজপালকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। রায়ের পর তিনি নিজেকে ‘রাজনীতির শিকার’ দাবি করে জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।
মামলাটি ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় অনুষ্ঠিত থিঙ্কফেস্ট অনুষ্ঠানের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন কনিষ্ঠ এক নারী সহকর্মীকে একটি হোটেলের লিফটের ভেতরে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ করেন তেজপাল।
এ ঘটনায় ২০১৭ সালে মাপুসার সেশনস আদালতে বিচার শুরু হয়। পরে ২০২১ সালে নিম্ন আদালত তেজপালকে খালাস দিলে গোয়া সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে আপিল করে।
বিচারপতি ড. নীলা গোখলে ও বিচারপতি অমিত জামসান্দেকরের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করেন।
শুনানিতে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা রাজ্য সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে পূর্বধারণার ভিত্তিতে নিম্ন আদালত গুরুতর ভুল করেছে। তার ভাষায়, একজন ভুক্তভোগী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন—এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বা সর্বজনীন মানদণ্ড নেই; ব্যক্তিভেদে, পরিস্থিতিভেদে এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
দণ্ড ঘোষণার পর তুষার মেহতা আদালতে তেজপালের তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের আবেদন জানিয়ে বলেন, যখন কোনো নারী 'না' বলে, তখন তার অর্থ 'না'। সমাজের কাছে এই বার্তাটি স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
অন্যদিকে, আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ৬২ বছর বয়সী তেজপাল নিজের প্রতি দয়া প্রদর্শনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে একজন ভুক্তভোগী মনে করি। আমার একজন স্ত্রী আছেন। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’ তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।