✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৬, | ১৯:৪২:১৮ |হাজার বছরের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে সামনে এলো ১১শ’ বছরের পুরোনো এক ইউ গাছ। জার্মানির আলগাউ অঞ্চলে একটি নির্জন পার্বত্য তৃণভূমিতে আবিষ্কৃত এই গাছটিকে দেশটির প্রাচীনতম জীবিত বৃক্ষ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১শ’ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত উত্তর-পশ্চিমমুখী এক ঢালে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে অলৌকিকভাবে টিকে রয়েছে এই প্রাকৃতিক বিস্ময়টি।
জার্মান ডেনড্রোলজিক্যাল সোসাইটির বৃক্ষবিজ্ঞানীরা গাছটির গুঁড়ির বেড় পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, এটি প্রায় ৫.১ মিটার প্রশস্ত। তাদের ধারণা, প্রায় ১১শ’ বছর ধরে প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে বাড়বাড়ন্ত অবস্থায় টিকে রয়েছে গাছটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউ কাঠের বীজের সাহায্যে কোনো পাখির মাধ্যমে হয়তো সেখানে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল। প্রাচীনকাল থেকেই ইউরোপীয় অঞ্চলে ইউ গাছের বিশেষ কদর ছিল; এমনকি ইতালির আল্পস পর্বতমালায় পাওয়া প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো বিখ্যাত আইসম্যানের শিকারের ধনুকটিও তৈরি হয়েছিল এই ইউ গাছের কাঠ দিয়ে।
দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন স্যাক্সনির উপস্টেট গ্রামে অবস্থিত এক হাজার বছরের পুরোনো একটি চুন গাছ বা লাইম ট্র্রি জার্মানির প্রাচীনতম গাছ হিসেবে পরিচিত ছিল। নতুন এই ইউ গাছটি আবিষ্কৃত হওয়ার পর সেটিকে পেছনে ফেলে শীর্ষ স্থানটি দখল করে নিল। প্রাচীনত্বের বিচারে এর পরেই রয়েছে ওয়েস্টফালিয়ার রায়েসফেল্ডে অবস্থিত প্রায় ৯০০ বছর বয়সী 'এরলে ফেম' ওক গাছ, যা মধ্যযুগে ইউরোপের গোপন বিচারিক আদালত হিসেবে ব্যবহূত হতো।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়া এই ইউ গাছ হলো ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন দেশীয় উদ্ভিদের প্রজাতি। চরম ঠাণ্ডা ও শীতকালে দীর্ঘ সময় সূর্যালোক না পাওয়া সত্ত্বেও পর্বত চূড়ায় হাজার বছর পার করে দেওয়া গাছটিকে গবেষকরা একটি অলৌকিক প্রাকৃতিক স্থাপত্য হিসেবে দেখছেন। ড্রেসডেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক আন্দ্রিয়াস রলোফ এই কাণ্ডের সৌন্দর্য বর্ণনা করে বলেন, ফাটল, ফোলা অংশ, খাঁজ ও গর্তে ভরা গাছটির কাণ্ড যেন শতাব্দীর গল্প রূপায়িত করা এক স্বপ্নের স্মৃতিস্তম্ভ।
সূত্র: ইউরো নিউজ