এআই'র জয়জয়কারেও কেন ডেনমার্কের কর্মীদের কোনো ভয় নেই?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৪, | ১৬:৪৯:২৩ |

সারা বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর কারণে কর্মসংস্থান হারানোর ভয়ে তটস্থ, তখন ডেনমার্কের শ্রমিকদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো আতঙ্ক নেই বললেই চলে। এই স্বস্তির মূলে রয়েছে নব্বইয়ের দশকে ডেনমার্কে চালু হওয়া ‘ফ্লেক্সিকিউরিটি’ নামক একটি বিশেষ অর্থনৈতিক মডেল। ফ্লেক্সিবিলিটি এবং সিকিউরিটি; এই দুই শব্দের সমন্বয়ে তৈরি এই ব্যবস্থার মূল কথা হলো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী সহজে কর্মী নিয়োগ বা ছাঁটাই করতে পারবে, যাতে তারা এআই-এর মতো নতুন প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ করতে পারে। তবে বিনিময়ে সরকার সেই ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। 

ডেনমার্কে চাকরি হারানো একজন কর্মী তার আগের বেতনের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেকার ভাতা হিসেবে পেতে পারেন, যা অনেক ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়ের মধ্যে সরকার তাদের নতুন কোনো পেশায় দক্ষ করে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যবস্থাও করে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ পিটার হাউইট এই মডেলকে বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ডেনমার্কের মানুষ অন্যদের তুলনায় অনেক কম শঙ্কিত।

তবে ডেনমার্কের এই সাফল্যের গল্প কি ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে প্রতিলিপি করা সম্ভব? অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সমীকরণের অর্ধেকটা ভারতে আগে থেকেই বিদ্যমান থাকলেও অন্য অর্ধেকের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। ভারতে বিশেষ করে বেসরকারি এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাইয়ের নমনীয়তা থাকলেও নেই কোনো সামাজিক নিরাপত্তা। 

বর্তমানে এমনকি সরকারি চাকরিতেও চুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বাড়ছে, যেখানে চাকরি হারানোর পর রাষ্ট্র থেকে আর্থিক সহায়তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া ডেনমার্ক একটি ক্ষুদ্র এবং উচ্চ কর আদায়কারী দেশ হওয়ায় তাদের পক্ষে এই বিপুল ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রযুক্তির কারণে কর্মসংস্থান হারানোর ভয় নতুন কিছু নয়। শিল্প বিপ্লবের সময় যখন যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হয়েছিল, তখন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বছর শ্রমবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ছিল। আবার কম্পিউটারের আগমনের সময়ও মানুষ কাজ হারানোর ভয় পেয়েছিল কিন্তু বাস্তবে তা নতুন নতুন পেশার সুযোগ তৈরি করেছিল। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এআই-এর প্রভাবেও শ্রমবাজারে একটি বড় ধরনের রূপান্তর ঘটা অনিবার্য। দীর্ঘমেয়াদে এটি সমাজের জন্য সুফল বয়ে আনলেও স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষকে বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হতে পারে। হাউইট সতর্ক করে দিয়েছেন, যারা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে বাধা দেবে তারা দীর্ঘমেয়াদে পিছিয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি এআই-এর কাজ কেড়ে নেওয়া নিয়ে নয় বরং কাজ হারানোর পর ডেনমার্কের মতো রাষ্ট্র সেই নাগরিকের পাশে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়েই এখন বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..