✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৪, | ১৭:৩৪:৪৮ |গত বছর ভিয়েতনাম সফরের সময় বিমান থেকে নামার মুহূর্তে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ধাক্কা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সেই ঘটনাকে ‘মজা’ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হলেও, এবার এক নতুন বইয়ে উঠে এলো বিস্ফোরক তথ্য।
ফরাসি সাংবাদিক ফ্লোরিয়ান তার্দিফের লেখা ‘অ্যান (অলমোস্ট) পারফেক্ট কাপল’ বইটিতে দাবি করা হয়েছে, কোনো কৌতুক নয় বরং স্বামী ম্যাক্রোঁর ফোনে এক ইরানি অভিনেত্রীর ‘উত্তেজক’ খুদে বার্তা দেখে মেজাজ হারিয়েছিলেন ফার্স্ট লেডি।
ফ্লোরিয়ান তার্দিফের দাবি অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী ইরানি বংশোদ্ভূত ফরাসি অভিনেত্রী গোলশিফতেহ ফারাহানির সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে ম্যাক্রোঁর এক ধরনের ‘প্লেটোনিক’ বা আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল। যদিও এই সম্পর্ক শারীরিক ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে, তবে তাদের মধ্যকার আলাপচারিতা বেশ ব্যক্তিগত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। সাংবাদিক তার্দিফ জানান, প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মহলের মাধ্যমে তিনি কিছু বার্তার হদিস পেয়েছেন যেখানে ফারাহানি ম্যাক্রোঁকে লিখেছিলেন, আপনাকে আমার খুব আকর্ষণীয় লাগে। প্রত্যুত্তরে প্রেসিডেন্টও অভিনেত্রীকে ‘খুব সুন্দরী’ বলে অভিহিত করেন।
বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বিমান অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে ম্যাক্রোঁর ফোনে ওই বার্তাগুলো ব্রিজিতের নজরে আসে। ৭৩ বছর বয়সী ফার্স্ট লেডি বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে প্রকাশ্যে মেজাজ হারান, যার প্রতিফলন দেখা যায় বিমানের সিঁড়িতে সেই আলোচিত ধাক্কা বা চড় মারার ঘটনায়। তৎকালীন সময়ে এলিসি প্যালেস এই ঘটনাকে ‘ফেক নিউজ’ বা স্রেফ ‘খুনসুটি’ বলে উড়িয়ে দিলেও নতুন এই বইয়ের তথ্যে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, ফার্স্ট লেডির ঘনিষ্ঠ মহল এই অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সেই ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে—এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে অভিনেত্রী ফারাহানিও আগে এই সম্পর্কের গুঞ্জন অস্বীকার করেছিলেন এবং নতুন বইয়ের অভিযোগ নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি। তবে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘটনা নিয়ে রসিকতা এবং সাংবাদিক তার্দিফের নতুন এই দাবি ফরাসি রাজনীতি ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি