পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের খবর সঠিক না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমন সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে* কমিশন থেকে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার কোনো সিদ্ধান্ত ইসি নেয়নি। এ সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর। এমন সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের বরাতে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, সীমানা জটিলতার কারণে আদালতের আদেশে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। খবরে বলা হয়, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এ দুটি আসনে নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এমন খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্পষ্ট করে জানায়, এ দুটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে ইসি গত ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। তাতে সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়। গেজেটের এই দুটি আসন সংক্রান্ত অংশটুকুর বৈধতা নিয়ে বেড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ও সাঁথিয়ার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন।
তাতে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পর গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনার আসন দুটি নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। সেখানে আগের মতোই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন) নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠিত হয়। আর পাবনা-২ আসনও গঠিত হয় বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও নির্বাচন কমিশন পৃথক আবেদন করে। আবেদন দুটি গত ২৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
হাইকোর্টের রায়ের আলোকে পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসন আগের মতো পুনর্বহাল করে গত ২৪ ডিসেম্বর ইসির প্রকাশিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা পর্যন্ত সময়ের জন্য বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে আসন দুটির ক্ষেত্রে ইসির গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেট বহাল থাকল। অর্থাৎ সাঁথিয়া উপজেলা এককভাবে নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসন হিসেবে বহাল থাকে।
এ জাতীয় আরো খবর..