সর্বশেষ :
ইরানে ঐক্য দেখে গোটা বিশ্ব বিস্মিত, শত্রুর হিসাব উল্টে গেছে : পেজেশকিয়ান অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম থেকে উঠবেন যেভাবে রক্ত পরীক্ষাতেই জানা যাবে শরীরের কোন অঙ্গ কতটা ‘বুড়িয়ে’ গেছে! ট্রাম্পের ইরান হামলার পর পরমাণু অস্ত্র অর্জনের কথা ভাবছে অনেক দেশ : তেহরান ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন সুনীল গাভাস্কাররা ইরানে গ্যাসের বিপুল মজুত আবিষ্কার, সম্ভাব্য মূল্য ‘দশ বিলিয়ন ডলার’ নভোচারীর ক্যামেরায় ধরা পড়ল আলোর জাদুকরী খেলা লালচে বিড়ালকে পদবি দিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ, নাম দিল ‘চিফ ফেলিন অফিসার’ গ্রীষ্মে ফ্রান্সে পানিতে ডুবে মৃত্যু ৩০১, এক বছরে বেড়েছে ১৪ শতাংশ স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হচ্ছে, বন্ধ করুন এই ৫ সেটিংস

সঞ্চয়পত্রের নমিনি করেন ভাই, সেই লোভেই হত্যা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৩, | ২৩:৪০:০৮ |
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিজ শয়নকক্ষে মো. ফারুক শেখ (৪৫) হত্যার রহস্য উন্মোচনের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। ফারুকের সঞ্চয়পত্রের নমিনি তাঁর ছোট ভাই আব্দুল বারেক শেখের পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনায় বারেকসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর আজ রোববার আদালতে পাঠায় পুলিশ। সেখানেই বিকেলে তারা জবানবন্দি দেন। 

নিহত ফারুক শেখ গোয়ালন্দ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরজামতলা এলাকার মো. আব্দুল খালেক শেখের ছেলে। গত শনিবার দুপুরে নিজ শয়নকক্ষে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন তিনি। দুর্বৃত্তরা তাঁর গলা কেটে ও দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

এ মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– ফারুকের ছোট ভাই মো. আব্দুল বারেক শেখ, উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মণ্ডলপাড়ার মো. রুবেল শেখ (৩০) ও মো. আলমগীর হোসেন আলম (২৬)।

নিহত ফারুক শেখের ছোট ভাই আরিফ শেখের স্ত্রী জোসনা খাতুনের ভাষ্য, তাঁর ভাসুর ফারুক শেখ জমি বিক্রির আট লাখ টাকা সঞ্চয়পত্র কিনে সোনালী ব্যাংকে জমা রাখেন। আগে ওই টাকার নমিনি ছিলেন তাঁর শ্বাশুড়ি। তিনি মারা গেলে ছোট ভাই আব্দুল বারেক শেখকে নমিনি করেন ফারুক শেখ। তবে বাড়িতে কোনো দিন ভাসুরদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বা রাগারাগি দেখেননি।

পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন হিসেবে এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে আব্দুল বারেক শেখের কথায় অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। পরে তাঁকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বারেক।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে, ফারুক শেখ দৌলতদিয়া পূর্বপাড়ায় মামার চায়ের দোকানে কাজ করতেন। সেখানে কাজ করতেন রুবেল ও আলম। মাস দেড়েক আগে তাদের সঙ্গে ফারুকের তর্কাতর্কি হয়। এর জেরে রুবেল ও আলমকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে ফারুকের ওপর দুজনের ক্ষোভ ছিল। অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকে ফারুকের কেনা সঞ্চয়পত্রে নমিনি ছিলেন তাঁর মা। দুই বছর আগে তিনি মারা গেছে ছোট ভাই বারেককে নমিনি করেন ফারুক। এই টাকার লোভে তিনি ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। বারেক আগস্টের প্রথম সপ্তাহে রুবেল ও আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারাও ফারুককে হত্যার দায়িত্ব নেন। ছয়-সাতদিন আগেও ফারুককে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়িতে যান দুজন। এ সময় তাদের পিটিয়ে বের করে দেন ফারুক।

তাঁর ভাষ্য, গত শুক্রবার রুবেল ও আলমের সঙ্গে দেখা করে গত শনিবার ফারুককে হত্যার চূড়ান্ত ছক কষেন বারেক শেখ। এ জন্য দুজনকে ১৭০০ টাকাও দেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রুবেল ও আলম বাড়িতে এসে প্রথমে বারেকের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি দুটি সোল (ডাব কাটার অস্ত্র) দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ফারুক ঘরের দরজা খুলে ঘুমাচ্ছিলেন। এই সুযোগে রুবেল ও আলম কুপিয়ে প্রথমে গলা কেটে ফেলেন। পরে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যান। বারেক পরে দুজনের সঙ্গে দেখা করে আরও ১৩০০ টাকা দিয়ে পালিয়ে যেতে বলেন।

আজ বিকেলে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক বলেন, এ ঘটনায় শনিবার রাতেই থানায় হত্যা মামলা করেন ফারুকের বাবা আব্দুল খালেক শেখ। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিনজনকে আজ বিকেলে আদালতে তোলা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ আগেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি দা, রক্তমাখা গেঞ্জি-প্যান্ট, মোবাইল ফোন, মাস্ক উদ্ধার করে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..