✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৩, | ০০:৫৩:৩৪ |ব্রিটেন ও ফ্রান্সের শতাধিক সাবেক কূটনীতিক বলেছেন, সবার চোখের সামনে ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলা হচ্ছে। তারা ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বাণিজ্য ও অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধসহ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দেশটি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেয়।
যৌথভাবে প্রকাশিত এক নজিরবিহীন চিঠিতে তারা কূটনৈতিক ভাষা পরিহার করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন আর ইসরায়েলকে প্রকৃত গণতন্ত্র হিসেবে দেখে না।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য গঠনে ব্রিটেন ও ফ্রান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ২০২৫ সালে উভয় দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাই এখন তাদের দায়িত্ব হলো ‘এই অঞ্চলের মৌলিক সংকট-ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের সমান অধিকারের প্রশ্নে একসঙ্গে কাজ করা’।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের উদ্দেশে লেখা চিঠিটিতে স্বাক্ষর করেছেন ৫২ জন সাবেক ফরাসি কূটনীতিক এবং ৫০ জন সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত। তাদের অনেকেই মিসর, ইরান, বাহরাইন, ইসরায়েল, সিরিয়া, তুরস্ক, কুয়েত, সৌদি আরব ও কাতারে জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রিটিশ স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক দুই রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোনস প্যারি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক এডওয়ার্ড চ্যাপলিন। ফরাসি স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক পাত্রিস পাওলি এবং জেরুজালেমের সাবেক কনসাল জেনারেল স্তানিসলাস দ্য লাবুলায়ে। গার্ডিয়ান ও ল্য মোঁদ পত্রিকাকে দেওয়া এই চিঠি প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও আরও নয়টি দেশের এক যৌথ বিবৃতির দুদিন পর। ওই বিবৃতিতে ইসরায়েল সরকারের ই-১ বসতি প্রকল্পের জন্য নির্মাণ দরপত্র আহ্বানের নিন্দা জানানো হয়। দেশগুলো বলেছে, প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্প ‘ইসরায়েলকে শান্তি থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবস্থান দুর্বল করবে’। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরকে বিভক্ত করে দেওয়ার মতো ১,২০০টি বাড়ি নির্মাণের এই পরিকল্পনাকে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য ধ্বংসাত্মক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইসরায়েলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিক, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড্যানিয়েলা গ্রুডস্কি একস্টেইনকে তলব করেন।
এর জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, ইসরায়েল নিষ্ক্রিয় থাকবে না। তিনি বলেন, ‘যেভাবে ব্রিটিশ জনগণের যুক্তরাজ্যের সর্বত্র বসবাসের অধিকার আছে, ঠিক সেভাবেই ইহুদি জনগণেরও সমগ্র ইসরায়েলে বসবাসের অধিকার রয়েছে।’
সাবেক কূটনীতিকরা আশা করছেন, তাদের এই চিঠি মাখোঁ ও বার্নহামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, যাতে তারা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান টিকিয়ে রাখতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
গাজা থেকে ইসরায়েলের প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও দূত জ্যারেড কুশনারের মধ্যকার আলোচনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত গাজার সর্বশেষ ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি মুসলিম দেশ সমালোচনা করে বলেছে, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ‘ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া যৌথ প্রচেষ্টাকে মৌলিকভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে’।
কূটনৈতিক মহলে এ নিয়েও বিতর্ক চলছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামরিক ও রাজনৈতিক উসকানির মাধ্যমে অন্যান্য দেশকে প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে চাইছেন কিনা, যা আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তার রাজনৈতিক লাভে আসতে পারে।
সাবেক কূটনীতিকরা বলেছেন, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বহুদিনের বিলম্বিত পদক্ষেপটি এখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিতে হবে। কারণ ‘ইসরায়েল সরকার স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা ধ্বংস করতে চাইছে এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অসংখ্য প্রস্তাবকে অবজ্ঞা করছে।’