✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২২, | ১৯:৩৬:২৭ |ব্যাটারির শক্তিতে চলা বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে হার্ট অ্যারোস্পেসের এক্স১ নামের পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজটি ২৭ মিনিট আকাশে ছিল। পুরো উড্ডয়নেই কোনো জ্বালানি ব্যবহার না করে শুধু ব্যাটারির শক্তিতে উড়েছে বিমানটি।
সুইডেনে প্রতিষ্ঠিত হার্ট অ্যারোস্পেসের তৈরি এক্স১ মূলত যাত্রী পরিবহনের জন্য নয়। ভবিষ্যতে ৩০ আসনের হাইব্রিড বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরির প্রযুক্তি পরীক্ষা করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। প্রথম উড্ডয়নে উড়োজাহাজটিতে ছিলেন শুধু একজন পাইলট। এ সময় এটি সর্বোচ্চ প্রায় ১১০০ ফুট উচ্চতায় ওঠে।
এক্স১ এর দৈর্ঘ্য ৭৬ ফুট এবং ডানার বিস্তার ১০৬ ফুট। এর ওজন ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি। উড়োজাহাজটিতে ৩০টি আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হার্ট অ্যারোস্পেসের দাবি, বাণিজ্যিক আকারের উড়োজাহাজে ব্যাটারিচালিত উড্ডয়নের সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইট একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে এক্স১ কে কখনো যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে না। এটি মূলত একটি উড়ন্ত পরীক্ষাগার। ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর এবং উড্ডয়ন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করে সেখান থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ তৈরিতে কাজে লাগাবে প্রতিষ্ঠানটি।
হার্ট অ্যারোস্পেসের পরবর্তী বড় প্রকল্প ইএস৩০। এটি ৩০ আসনের একটি হাইব্রিড বৈদ্যুতিক আঞ্চলিক উড়োজাহাজ। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের দিকে ইএস৩০ বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, এয়ার কানাডা ও জেএসএক্স এই মডেলের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ব্যাটারির ওজন ও শক্তি ধারণক্ষমতা। জ্বালানি চালিত প্রচলিত উড়োজাহাজ উড্ডয়নের সময় জ্বালানি খরচ করতে করতে হালকা হতে থাকে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজকে পুরো যাত্রাপথে একই ব্যাটারির ওজন বহন করতে হয়। ফলে উড়োজাহাজের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাটারির ওজনও বাড়ে।
হার্ট অ্যারোস্পেসের হিসাব অনুযায়ী, ইএস৩০ ব্যাটারির শক্তিতে একবারে প্রায় ১২৫ মাইল পর্যন্ত যেতে পারবে। তবে আঞ্চলিক অনেক রুটের জন্য এই দূরত্ব যথেষ্ট নয়। তাই উড়োজাহাজটিতে একটি জ্বালানি চালিত ইঞ্জিন যুক্ত করে সেটিকে হাইব্রিড করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০০ মাইল পর্যন্ত যাত্রার সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।
শুধু দূষণ কমানো নয়, পরিচালন ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাও হাইব্রিড উড়োজাহাজের অন্যতম আকর্ষণ। হার্ট অ্যারোস্পেসের দাবি, একই ধরনের প্রচলিত আঞ্চলিক উড়োজাহাজের তুলনায় ইএস৩০ পরিচালনায় ৪০ শতাংশের বেশি খরচ কমতে পারে। এর পেছনে কম জ্বালানি ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক মোটরের তুলনামূলক কম চলমান যন্ত্রাংশকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এক্স১ এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নেও ব্যাটারিচালিত প্রযুক্তির কম শক্তি ব্যয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। হার্ট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, ২৭ মিনিটের ওই উড্ডয়নে বিদ্যুতের খরচ হয়েছে প্রায় ৫ ডলার (আজকের ডলার এর রেট হিসাব করলে বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ৬১১ টাকা)। তবে এই হিসাবকে উড়োজাহাজটির প্রকৃত পরিচালন ব্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এতে পাইলট ও অন্যান্য কর্মীর খরচ, বিমানবন্দর ফি, বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়জনিত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়।
হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডার্স ফর্সলুন্ড বলেন, এক্স১ এর প্রথম উড্ডয়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আকারের কাছাকাছি একটি বিমানে বৈদ্যুতিক উড্ডয়নের সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে।
তবে এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন বৈদ্যুতিক বিমান চলাচলের সব সীমাবদ্ধতা দূর করেনি। বিশেষ করে ব্যাটারির ওজন, শক্তি ধারণক্ষমতা এবং উড্ডয়নের পরিসর এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তবু বড় আকারের উড়োজাহাজে ব্যাটারিচালিত প্রযুক্তির বাস্তব পরীক্ষা ভবিষ্যতের হাইব্রিড আঞ্চলিক বিমান তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে বলে মনে করছে হার্ট অ্যারোস্পেস।
হার্ট অ্যারোস্পেস ২০২৫ সালে সুইডেনের গোথেনবার্গ থেকে তাদের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানান্তর করে। ছোট দূরত্বের উড়োজাহাজে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: টেকস্পট