এক গ্লাস ফলের রসে কমতে পারে বিষণ্ণতা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১১, | ১৫:০৫:০৫ |
প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস বা স্মুদি পান করা শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফলের রস বা স্মুদি পান করার সঙ্গে বিষণ্ণতার মাত্রা কমার সম্পর্ক রয়েছে।

ফলের রস ও স্মুদিতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। এসব উপাদান শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। পাশাপাশি ফল খাওয়ার পরিমাণ বাড়ালে খাদ্যতালিকায় আঁশ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও বাড়ে। ফলে সামগ্রিকভাবে শরীর ভালো থাকলে মানসিক সুস্থতাও বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষ করে যারা নিয়মিত ফল ও সবজি কম খান, তাদের খাদ্যতালিকায় ফলের রস যোগ করা ফল গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর একটি সহজ উপায় হতে পারে। নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সপ্তাহের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফল ও সবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস বা স্মুদি পান করা ব্যক্তিদের বিষণ্ণতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

মানসিক স্বাস্থ্যের উপকার
ফল ও সবজিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য উপকারী উপাদান সরবরাহ করতে পারে।

গবেষকেরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ফলের রস গ্রহণ মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। কিছু আগের গবেষণাতেও সাইট্রাস বা লেবুজাতীয় ফলের রসের সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ও চিন্তাশক্তির উন্নতির সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শুধু ফলের রস খেলেই বিষণ্ণতা বা মানসিক চাপ দূর হবে, এমনটা বলা যায় না। নিয়মিত ঘুম, শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্যও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরে পুষ্টি জোগায়
ফলের রস দ্রুত ও সহজে ফলের কিছু পুষ্টি উপাদান গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে। ব্যস্ত জীবনে যারা নিয়মিত ফল খেতে পারেন না, তাদের জন্য ১০০ শতাংশ ফলের রস বা স্মুদি খাদ্যতালিকায় ফল যুক্ত করার একটি সহজ উপায় হতে পারে। তবে আস্ত ফলেরও আলাদা উপকার রয়েছে। আস্ত ফলে আঁশ বেশি থাকে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই ফলের রসের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারে আস্ত ফল ও সবজি রাখাও জরুরি।

আঁশ গ্রহণ বাড়াতেও সহায়ক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ফল ও সবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়েছেন, তাদের দৈনিক আঁশ গ্রহণও বেড়েছে। আঁশ হজমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং নিয়মিত পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ফল ও সবজি নিয়মিত খেলে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় আঁশ যোগ করা সহজ হয়।

হৃদযন্ত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফল ও সবজি নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফলের রসে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদানও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি মেশানো ফলের পানীয়ের বদলে ১০০ শতাংশ ফলের রস বেছে নেওয়া ভালো।

কতটা খাওয়া ভালো
ফলের রস উপকারী হলেও পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। একসঙ্গে বেশি ফলের রস পান করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ ১০০ শতাংশ ফলের রস বা স্মুদি নেওয়া যেতে পারে। ফলের রসের সঙ্গে চিনি, সিরাপ বা অতিরিক্ত মিষ্টি উপাদান না মেশানোই ভালো। বিশেষ করে বাজারের প্যাকেটজাত পানীয় কেনার সময় সেটি ১০০ শতাংশ ফলের রস কি না এবং এতে বাড়তি চিনি আছে কি না, তা দেখে নেওয়া উচিত।

শুধু ফলের রসের ওপর নির্ভর নয়
গবেষণায় ফলের রস ও মানসিক সুস্থতার মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেলেও এটিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা যাবে না। বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা দীর্ঘদিনের মানসিক সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিদিনের খাবারে ফল ও সবজি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিমিত ১০০ শতাংশ ফলের রস বা স্মুদি রাখা শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো ফল পেতে ফলের রসের পাশাপাশি আস্ত ফল, শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার ও সুষম খাদ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।
 

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..