✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৯, | ১১:৩১:১২ |যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে অংশ নেওয়া একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই ক্রু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিাবর আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে রিচফিল্ডের কাছে একটি জলাধার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দাবানলের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের কাছাকাছি অবস্থান করার সময় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি মার্কিন বন বিভাগের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছিল। সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ মডেলের এই হেলিকপ্টারটি হেলিকপ্টার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেসের মাধ্যমে পরিচালনা করা হতো।
দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর শনিবার ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংস্থাটি জানায়, আহত দুই ক্রু সদস্যের অবস্থাও গুরুতর। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কর্মকর্তারা জানান, আগুনের ভয়াবহতা এবং দুর্গম ও খাড়া ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ সমস্যায় পড়ে। পরে শনিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ডেপুটি ইনসিডেন্ট কমান্ডার টাইলার হেক্ট জানান, দুর্ঘটনার পর অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সময়ের জন্য অভিযান স্থগিত রাখা হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে আবারও আগুন নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনা অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রভাব ফেলবে না। মাটিতে থাকা দমকলকর্মীদের সহায়তায় আকাশপথে বিমান ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
উটাহর গভর্নর স্পেন্সার কক্স এ ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে বলেন, বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগুলোর একটি। নিহতদের জন্য তিনি সবার কাছে প্রার্থনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এক লাখ ১১ হাজার একরের বেশি বন পুড়েছে
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টে বজ্রপাত থেকে ‘ওয়াইডমাউথ ২’ দাবানলের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। এখন পর্যন্ত আগুনে এক লাখ ১১ হাজার একরেরও বেশি বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। ফলে চলতি বছর উটাহর সবচেয়ে বড় দাবানলে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে এটি।
চলতি গ্রীষ্মে উটাহতে দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় প্রাণহানির এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে, গত জুনে কলোরাডো সীমান্তের কাছে নোলস ও গোর দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে তিনজন দমকলকর্মী নিহত হন। পরে ওই ঘটনায় আহত আরও একজন দমকলকর্মী মারা যান।
সূত্র : আল জাজিরা