ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১০, | ১৯:৪৭:৩৮ |

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এমন দুটি বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি, যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে এসব সংকট তার দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে।

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এমন এক দুর্বল অবস্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে তাকে গত কয়েক দশকের যেকোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সঙ্গে বেশি তুলনা করা হচ্ছে। ১৯৭৯-৮০ সালের ইরানি জিম্মি সংকটের সময় যেমন তেহরান মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছিল, এবারও তেমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তবে এবার তেহরানে মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করে রাখা হয়নি। বরং বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ওয়াশিংটনের ওপর চাপ তৈরির সুযোগ পেয়েছে।

এক সপ্তাহ আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। কিন্তু এখন তেহরানই যেন আলোচনার শর্ত নির্ধারণ করছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন কিছু কঠিন শর্ত দিয়েছে, যা ট্রাম্পের জন্য মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে মার্কিন অর্থনীতিতে
ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ায় অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনীতিতে ইতিবাচক দিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তি আবাসন ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় তাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

এর মধ্যেই শুক্রবারের দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন রিপাবলিকানদের জন্য আরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই অর্থনীতি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি যতটা অন্ধকার হয়ে উঠছে, ট্রাম্পকে ততটা উদ্বিগ্ন বলে মনে হচ্ছে না।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোতেও এমন এক চিত্র ফুটে উঠেছে, যা বিরোধীরা সহজেই একজন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন প্রেসিডেন্টের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি গলফার গ্যারি প্লেয়ারের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। নিজের একটি গলফ কোর্সে নতুন গ্রিন তৈরির কাজের ছবিও দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রস্তাবিত হোয়াইট হাউস বলরুমের কাছে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন বন্দর, ওয়াশিংটনের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং রাজধানীতে দুটি ভাস্কর্যে নতুন করে সোনালি রং করার বিষয়েও পোস্ট করেছেন।

তিনি নিজেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সফল নেতা হিসেবেও তুলে ধরেছেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডে তাকে জাতীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনের নতুন পরিকল্পনায় ব্যস্ত প্রেসিডেন্টের চেয়ে বরং নিজের একটি দৃশ্যমান রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রেখে যেতে মরিয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবেই বেশি মনে হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ
সপ্তাহান্তে অবশ্য ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জয় পেয়েছেন। সিনেট তার সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী টড ব্লঁশকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে অল্প ব্যবধানে অনুমোদন দিয়েছে।
তবে এই জয় ট্রাম্পের কাছে যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণ ভোটারদের কাছে ততটা নয়।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার- ভোটিং বিধিনিষেধসংক্রান্ত বিল- বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসে পাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

এরই মধ্যে আগস্ট মাসে ট্রাম্পের জন্য আরেকটি কূটনৈতিক ধাক্কা এসেছে। গাজায় হামাসকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনাকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা আরেকটি উদ্যোগও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন ট্রাম্প?
সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় বিপদের সংকেত দেয়।

সিএনএনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যারন ব্লেকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একাধিক জরিপে এখন দেখা যাচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতি-দুটি ক্ষেত্রেই রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সুবিধা অনেকটাই ক্ষয়ে গেছে।

ট্রাম্প বরাবরই প্রচলিত রাজনৈতিক রীতিনীতি ভেঙে এগিয়ে যাওয়াকে নিজের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনও এর বড় উদাহরণ। কিন্তু নভেম্বরের নির্বাচন ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্প ২০১৬ ও ২০২৪ সালে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন একজন ‘বহিরাগত’ হিসেবে। কিন্তু এখন তিনি নিজেই রাজনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। অতীতে যখন তাকে নিজের প্রশাসনের রেকর্ডের পক্ষে সাফাই দিতে হয়েছে- বিশেষ করে ২০১৮ ও ২০২০ সালের নির্বাচনের সময়- তখন তার রাজনৈতিক সাফল্য অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

ভোটারদের অসন্তোষ বুঝতে পারছেন না ট্রাম্প?
ট্রাম্প ভোটারদের বর্তমান মনোভাব নিয়েও বাস্তবতা অস্বীকার করছেন বলে সমালোচনা রয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মানুষ আমার ওপর ক্ষুব্ধ নয়, তারা রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষুব্ধ।”

তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডেমোক্র্যাটরাই হয়তো ট্রাম্পকে কিছুটা রাজনৈতিক সুযোগ করে দিয়েছে।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারিতে প্রগতিশীল ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থীদের সাফল্য ট্রাম্পকে তার পুরোনো রাজনৈতিক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। তিনি এখন দাবি করতে পারছেন, তিনি বামপন্থী উগ্রবাদের ঢেউ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

এটি অনেকটা চলতি শতকের শুরুতে রিপাবলিকান পার্টির ‘টি পার্টি’ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনীয়। ডেমোক্র্যাটরা যদি এমন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়, যারা মধ্যপন্থী ও শহরতলির ভোটারদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন, তাহলে জয়ের সম্ভাবনাময় আসনও তারা হারাতে পারে।

তবে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি হলো, বর্তমান রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলাই তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে এমন ভোটারদের কাছে, যারা শুধু ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত নন, বরং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যপন্থী নেতৃত্বের প্রতিও আস্থাহীন।

জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসের ব্যর্থ নির্বাচনী প্রচারণার পর ট্রাম্প আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসতে পেরেছেন- এই বাস্তবতাও ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে প্রচলিত নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়েছে।

ট্রাম্পের দুর্বল জায়গা
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ রবিবার ট্রাম্পের অর্থনৈতিক দুর্বলতার ওপর জোর দেন। এমন এক সময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন, যখন মিশিগানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে তার প্রাইমারি লড়াই শেষ হয়েছে এবং রাজ্যটি আগামী সিনেট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সিএনএনের জেক ট্যাপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের তুলনায় ট্রাম্পকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে মিল অনেক বেশি।

তার অভিযোগ, ট্রাম্প নিজের ক্ষমতা নিজের এবং পরিবারের আর্থিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন; সাধারণ আমেরিকান পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য নয়।

ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ইরান
১৯৮০ সালে ইরান ৫২ জন আমেরিকানকে তেহরানে জিম্মি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব ফেলেছিল। ওই সংকট শেষ হতে সময় লেগেছিল ৪৪৪ দিন।
৪৬ বছর পর পরিস্থিতি আলাদা হলেও রাজনৈতিক ঝুঁকিটি অনেকটা একই রকম।

এবার জিম্মি করা হয়েছে মানুষ নয়; বরং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি সরবরাহপথকে কেন্দ্র করে সংকট তৈরি হয়েছে।

ফলে মার্কিন ভোটাররা যখন জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন ইরান ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক চাপের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

এএএ-এর তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম আবার ৪ ডলারের ওপরে উঠেছে। আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ও দীর্ঘমেয়াদে বাড়তে থাকায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলে এই চাপ দ্রুত কমে যাবে। কিন্তু তাদের এমন বক্তব্য উল্টো ইরানের দর-কষাকষির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কারণ তেহরান এখন আরও কঠিন শর্ত দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, যুদ্ধের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

ইরানের শর্ত ট্রাম্পের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন
ট্রাম্পের পক্ষে এসব শর্ত মেনে নেওয়া কার্যত অসম্ভব। ফলে ইরান হয়তো নিজের দর-কষাকষির ক্ষমতা অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেখছে।
কিন্তু ট্রাম্প যদি ধৈর্য হারিয়ে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন, তাহলে তাকে আরও গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়তে হতে পারে।

কারণ এতে ইতোমধ্যেই অজনপ্রিয় একটি যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং একই সঙ্গে মার্কিন অর্থনীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প আবারও উদ্যোগ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এখন তিনি অপেক্ষা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের অর্থনৈতিক প্রভাব ইরানের ওপর আরও স্পষ্টভাবে পড়ার জন্য।

রবিবার তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি খুব নিচু মাত্রায় রাখছি। আমরা তাদের সঙ্গে শুধু আংশিকভাবে আলোচনা করছি।”

অর্থাৎ, গত বছর বিমান হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় আঘাত, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিতে পশ্চাদপসরণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করার পর এখন ট্রাম্প বাজি ধরেছেন আরেকটি বিষয়ের ওপর- ইরানের তুলনায় মার্কিন অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি চাপ বেশি সহ্য করতে পারবে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, ‘অর্থনীতি দুর্দান্ত গতিতে চলছে’
রিপাবলিকানরা এখন যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব দ্রুত কমে যাওয়ার অপেক্ষায়।

শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যানুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে। এই তথ্য হোয়াইট হাউস ও রিপাবলিকানদের জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবে এসেছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান হারানো হাজারো মার্কিন নাগরিকের জন্যও এটি উদ্বেগজনক খবর।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি পুরো অর্থনীতি এখনও মৌলিকভাবে স্থিতিশীল।

ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট সিএনএনের জেক ট্যাপারকে বলেন, সামগ্রিক অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, “অর্থনীতি সত্যিই, সত্যিই দুর্দান্ত গতিতে চলছে।”

হ্যাসেটের যুক্তি, জুলাইয়ের কর্মসংস্থান কমার পেছনে বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে সাময়িক কর্মসংস্থান শেষ হওয়া এবং শিক্ষকদের জুলাই মাসের ছুটির মতো কারণ রয়েছে।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং পণ্যের দামও ধীরে ধীরে কমছে।

কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা ঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রেসিডেন্টদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি।

২০০৮ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জন ম্যাককেইনের নির্বাচনী প্রচারণা অর্থনৈতিক বাস্তবতা সামলাতে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় ডেমোক্র্যাটদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারণাতেও একই সমস্যা দেখা গিয়েছিল। ২০২৪ সালে বাইডেন ও হ্যারিসের ব্যর্থ প্রচারণাতেও অর্থনীতি বড় ভূমিকা রেখেছিল।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও একই ফাঁদ তৈরি হচ্ছে। হোয়াইট হাউস যখন বলছে অর্থনীতি শক্তিশালী, সাধারণ আমেরিকানরা তখন উচ্চ খাদ্যমূল্য, বাড়ির দাম, ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এবং আয়-ব্যয়ের চাপের সঙ্গে লড়াই করছে। ফলে সরকারের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বড় হচ্ছে।

আর এই ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্রাম্পের সামনে এখনও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যেটি
ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়েও ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী থাকার চেষ্টা করছেন।

অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেছেন, যুদ্ধের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়ে যাবে। তার ভাষায়, “এটা সবসময়ই ঠিক হয়ে যায়। এটা দাবা খেলার মতো।”
কিন্তু ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের আসল কৌশল কী, তার শেষ লক্ষ্য কোথায়-তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও পিছু হটছে না। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তারা ওয়াশিংটনের ওপর দর-কষাকষির চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, কর্মসংস্থানের তথ্য দুর্বল হচ্ছে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন ক্রমেই সামনে এগিয়ে আসছে।

ফলে ট্রাম্প এখন এমন এক কৌশলগত অচলাবস্থায় আটকে পড়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ নির্ভর করছে শুধু ইরানের ওপর নয়- মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধ ও অর্থনীতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, তার ওপরও।

১৯৮০ সালের নির্বাচনে ইরানি জিম্মি সংকট ও দুর্বল অর্থনীতি জিমি কার্টারের রাজনৈতিক পতনের অন্যতম কারণ হয়েছিল। চার দশকের বেশি সময় পর ট্রাম্পের সামনে এখন সেই ইতিহাসেরই এক নতুন সংস্করণ হাজির হয়েছে- তবে এবার জিম্মি নয়, হরমুজ প্রণালি এবং অর্থনৈতিক চাপই হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অস্ত্র। সূত্র: সিএনএন

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..