✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৮, | ১৯:৪৭:২৯ |গত এক দশকে ভারতের স্বাস্থ্য অবকাঠামো অভূতপূর্ব সম্প্রসারণের সাক্ষী হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারত সরকার সব নাগরিকের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করার দাবি করছে। এই প্রচেষ্টার ফলেই দেশটির মানুষের স্বাস্থ্যখাতে নিজস্ব পকেট থেকে খরচের পরিমাণ অতীতের ৬৫ শতাংশ থেকে কমে গত কয়েক বছরে ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
জেলা হাসপাতালের জন্ম নেয়া নবজাতক থেকে শুরু করে টারশিয়ারি কেয়ার সেন্টারের একজন ক্যানসার রোগী পর্যন্ত সকলের জন্যই নির্ভরযোগ্য, উচ্চমানের সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসাসামগ্রী আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মিশনের অধীনে পরীক্ষাগারগুলোর আধুনিকীকরণ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিকাঠামো, রোগ নজরদারি ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকার গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়, স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং স্থিতিস্থাপক করে তুলতে এখন নজর দেওয়া হচ্ছে একটি আত্মনির্ভর মেট-টেক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর।
ঐতিহাসিকভাবে ভারত বহু অত্যাধুনিক চিকিৎসাসামগ্রীর জন্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। এই প্রযুক্তিগুলি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করলেও তা উচ্চ খরচ, সরবরাহ শৃঙ্খলে দুর্বলতা এবং সীমিত প্রবেশগম্যতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিষয়টি অনুধাবন করে জাতীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নীতি ২০২৩-এর অধীনে নতুন প্রযুক্তির জন্য দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাতে চিকিৎসাসামগ্রী সাশ্রয়ী হয় এবং রোগ নির্ণয়ের খরচ কমে। উৎপাদন সঙ্গে যুক্ত উৎসাহ বা পিএলআই স্কিম, মেডিক্যাল ডিভাইস পার্ক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল-মেডটেক ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রসারণ প্রকল্পের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জাম ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে ব্যাপক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো উৎপাদন, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
এর ফলাফলও অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। পিএলআই স্কিমের অধীনে ৫০টিরও বেশি উচ্চমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থাও অর্জন করেছে ভারত। যা এই খাতে অব্যাহত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগও আনছে।
উন্নত রোগনির্ণয়, ইমেজিং সিস্টেম, ইমপ্লান্ট, ইনটেনসিভ কেয়ার সরঞ্জাম এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য সমাধানের সহজলভ্যতা রোগীদের আর্থিক বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের পাশাপাশি সেবার মান ও সময়োপযোগী হওয়া নিশ্চিত করে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন আমদানি নির্ভরতা হ্রাস, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালীকরণ এবং খরচ কমানোর সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সরাসরি এই উদ্দেশ্য অর্জনে অবদান রাখছে।
ভারতের ওষুধ শিল্প, শক্তিশালী প্রকৌশল ক্ষমতা, দ্রুত প্রসারিত ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম এবং দক্ষ মানবসম্পদ পরবর্তী প্রজন্মের চিকিৎসা প্রযুক্তি বিকাশের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিকিৎসাসামগ্রী হিসেবে সফটওয়্যার, সংযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, রোবোটিক্স এবং রিমোট ডায়াগনস্টিকসের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলি দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা মেটাতে উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করছে। ভারতীয় নির্মাতারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে মানও ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া মেট-টেকের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে। রোগী সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা উভয়কেই বাড়াতে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, স্বীকৃত টেস্টিং পরিকাঠামোর প্রসার, ক্লিনিকাল প্রমাণের বিকাশ প্রচার এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক মেট-টেক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য সরকার, শিল্পক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, স্টার্ট-আপ এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাও প্রয়োজন। ল্যাবরেটরি থেকে উৎপাদন সুবিধা এবং রোগীদের কাছে যখন ধারণাগুলো নির্বিঘ্নে পৌঁছে যায়, তখনই উদ্ভাবন প্রসার লাভ করে।
ভারতের মেট-টেক খাত এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম বাজার এবং বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বাজারের আকার প্রায় ১২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে অসংক্রামক রোগ, জরুরি যত্ন, ক্যানসার, কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান; ভারতের জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস