✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৭, | ১৯:৫৯:১২ |বিশ্বকাপ শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, কখনও কখনও এটি হয়ে ওঠে আবেগ, পরিবার ও অতীত স্মৃতির এক অনন্য মঞ্চ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা মিকেল মেরিনোর গোলও তেমনই এক গল্প লিখেছে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফেরান তোরেসের পাস থেকে গোল করে স্পেনকে জয় এনে দেন মেরিনো। তার সেই গোলেই বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় পর্তুগালের। তবে গোলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে মেরিনোর উদযাপন।
গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন না করে মেরিনো সোজা ছুটে যান কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে। এরপর মুঠো শক্ত করে হাসিমুখে কর্নার ফ্ল্যাগের চারপাশে ঘুরে নিজের বিশেষ সেলিব্রেশন করেন তিনি। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে এই উদযাপন।
তবে এই সেলিব্রেশনের পেছনে রয়েছে পারিবারিক আবেগের দীর্ঘ ইতিহাস। মিকেল মেরিনো জানিয়েছেন, এই উদযাপনটি তিনি তার বাবা মিগুয়েল মেরিনোর কাছ থেকে ‘চুরি’ করেছেন।
প্রায় তিন দশক আগে মিগুয়েল মেরিনোও গোল করার পর একইভাবে কর্নার ফ্ল্যাগ ঘিরে দৌড়ে উদযাপন করতেন। ১৯৯১ সালে ওসাসুনার হয়ে স্টুটগার্টের বিপক্ষে উয়েফা কাপের ম্যাচে গোল করার পর প্রথমবার এই উদযাপন করেছিলেন তিনি। জানা যায়, সেই উদযাপনটি ছিল তার অসুস্থ দাদির প্রতি শ্রদ্ধা।
বাবা মিগুয়েল কখনো স্পেনের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু তার সেই বিশেষ উদযাপনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন ছেলে মিকেল। তাই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গোলের পর বাবার স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এই সেলিব্রেশন করেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালের ইউরো কাপেও একইভাবে গোল উদযাপন করেছিলেন মেরিনো। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও সেই উদযাপন করে তিনি বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শুধু বাবাকেই নয়, নিজের শিকড়কেও স্মরণ করেছেন মেরিনো। ক্যামেরার সামনে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘Viva San Fermin’ এটি তার জন্মস্থান পাম্পলোনার ঐতিহ্যবাহী উৎসবের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।
ম্যাচ শেষে মেরিনো বলেন,‘এর চেয়ে সুন্দরভাবে উদযাপনের আর কোনো উপায় হতে পারে না।’