✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৭, | ১৯:৫১:৫৮ |ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি শুধু একটি নম্বর নয়, এটি একটি ঐতিহ্য। দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে লিওনেল মেসি, এই জার্সিই বহন করেছে দেশটির ফুটবল গৌরবের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। তবে একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ১০ নম্বর জার্সিটিই অবসরে পাঠাতে চেয়েছিল। যদি সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতো, তাহলে হয়তো জাতীয় দলের হয়ে কখনোই ১০ নম্বর জার্সি গায়ে দেখা যেত না লিওনেল মেসিকে।
২০০০ সালের অক্টোবরে আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে সম্মান জানাতে ১০ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় এএফএ। তৎকালীন সভাপতি হুলিও গ্রন্দোনা ঘোষণা দেন, ২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপ থেকে জাতীয় দলের কোনো ফুটবলার আর এই জার্সি পরবেন না।
বিশ্বকাপের জন্য ফিফার কাছে জমা দেওয়া আর্জেন্টিনার জার্সি তালিকায়ও ১০ নম্বরটি বাদ রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেই আপত্তি জানায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
তৎকালীন ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে ১ থেকে ২৩ নম্বর পর্যন্ত সব জার্সি ব্যবহার করতে হতো। নির্দিষ্ট কোনো নম্বর বাদ দেওয়ার সুযোগ ছিল না। ফিফা জানিয়ে দেয়, ১০ নম্বর বাদ রাখতে চাইলে আর্জেন্টিনাকে ২৩ জনের বদলে ২২ সদস্যের দল নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে হবে।
ফিফার কড়া অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় এএফএ। ২০০২ বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়া হয় মিডফিল্ডার আরিয়েল ওর্তেগার হাতে। তবে সেই আসরে অন্যতম ফেভারিট হয়েও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা।
এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরেন হুয়ান রোমান রিকেলমে। আর ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চাপান লিওনেল মেসি। সে ম্যাচে দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তাও করেন তিনি।
পরবর্তীতে ২০১০ বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া দিয়েগো ম্যারাডোনা আনুষ্ঠানিকভাবে মেসির হাতেই তুলে দেন আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। এরপর থেকে এই জার্সিই হয়ে ওঠে মেসির পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক।