✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৫, | ১৫:১৪:৪২ |বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হতেই মাঠের উত্তেজনা পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়। দৃষ্টিনন্দন গোলের পাশাপাশি এবার আলোচনায় রয়েছে শটের গতিও। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিটি শটের গতি নির্ভুলভাবে পরিমাপ করছে ফিফা, আর সেই হিসাবেই এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির শটে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ে।
ফিফার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে গেয়ের নেয়া শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩১ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার। এটাই টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির শট থেকে হওয়া গোল। যদিও সেনেগালের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে, ব্যক্তিগত এই কীর্তিতে আপাতত শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
এর আগে দ্রুততম শটের তালিকার শীর্ষে ছিলেন সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি। কানাডার বিপক্ষে তার শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৮ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। তবে গেয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার বেশি গতির শটে গোল করে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নরওয়ের থেলো আসগার্ড। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার নেওয়া শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার। ম্যাচটি নরওয়ে হারলেও আসগার্ডের গোলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী শট হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
কেপ ভার্দের কেভিন পিনাও এই তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উরুগুয়ের বিপক্ষে তিনি ঘণ্টায় ১২৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার গতির শটে গোল করেন। প্রায় ৩১ গজ দূর থেকে নেওয়া এই শটটি শুধু গতির জন্যই নয়, দূরপাল্লার গোল হিসেবেও অনন্য। একই সঙ্গে এটি ছিল বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের ইতিহাসের প্রথম গোল।
শেষ ষোলো শুরুর আগে দ্রুততম শটে করা শীর্ষ ১০ গোলের মধ্যে ৯টিই এসেছে গ্রুপ পর্বে। নকআউট পর্ব থেকে এই তালিকায় জায়গা করে নিতে পেরেছেন কেবল মিশরের মোহামেদ সাবের। ডালাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে নেওয়া তার পেনাল্টি শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার, যা সেরা দশে স্থান পেয়েছে।
কীভাবে মাপা হচ্ছে শটের গতি?
এই পরিসংখ্যান নির্ধারণে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’-এর ভেতরে স্থাপন করা ইনারশিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (IMU) সেন্সর। অত্যন্ত হালকা এই সেন্সর বলের ভারসাম্য বা পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলে না।
স্টেডিয়ামের চারপাশে বসানো ১৬টি বিশেষ ক্যামেরার সঙ্গে সমন্বয় করে সেন্সরটি কাজ করে। ক্যামেরাগুলো বল ও খেলোয়াড়দের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০ বার করে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ২৯ ধরনের ডেটা সংগ্রহ করে। এরপর সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হয় শটের গতি, বলের গতিপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান।
এই প্রযুক্তি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ নারী বিশ্বকাপেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল ফিফা ও অ্যাডিডাস। ফলে গোলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি তার গতিবিজ্ঞানও এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক।