মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

নারী-শিশু অধিকার ও উন্নয়ন: বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৭, | ১৫:০৭:২৬ |

নারী ও শিশুদের টেকসই উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এনডিসি উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে নারী ও শিশুদের টেকসই উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অনলাইনে সাইবার বুলিং এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নির্মূলসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং নারী ও শিশুর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা নির্মূলের মাধ্যমে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে অবহিত করেন। এসব কার্যক্রমের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওএসসিসি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যৌন হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে ডিএনএ ল্যাবরেটরির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য ও দ্রুততর হচ্ছে, যাতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান। তিনি জানান, চা শ্রমিক, সাঁওতাল ও পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হস্তশিল্প ও কেয়ার-গিভিং বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, দেশের অবহেলিত, অসচ্ছল, দরিদ্র, হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সর্বজনীন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নারীদের নামে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ কোনোভাবেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। মন্ত্রী আরও জানান, শিশুদের কল্যাণে সরকার বিনামূল্যে মিড-ডে মিল ও ইউনিফর্ম দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। 

বৈঠকে বাংলাদেশের নারীদের তৈরি পণ্য যুক্তরাজ্যে রপ্তানির বিষয়ে সহযোগিতা চান মন্ত্রী। এ বিষয়ে ইতিবাচক সহযোগিতার আশ্বাস দেন হাইকমিশনার সারাহ কুক। এসময় বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট ও ফুটবল দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে হাইকমিশনার মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যেন দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..