✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৬, | ১৪:২৫:৫৪ |ক্লাব ফুটবলে গোল মেশিন হিসেবে পরিচিত আর্লিং হালান্ড এবার একই ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও। ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে জোড়া গোল করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নরওয়েকে পৌঁছে দিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনালে।
এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে শুধু দলকেই নয়, নিজের পরিবারের ইতিহাসকেও নতুনভাবে লিখছেন হালান্ড। কারণ, এই বিশ্বমঞ্চে তার লড়াই এখন আর কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের নয়—এটি তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ডের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের গল্পও।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে নরওয়ের জার্সিতে খেলেছিলেন আলফ-ইঙ্গে হালান্ড। সেই আসরে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল নরওয়ে, তবে শেষ ষোলোতে ইতালির কাছে হেরে থেমে যায় তাদের যাত্রা। কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন তখন অপূর্ণই থেকে যায়।

প্রায় তিন দশক পর একই চিত্র যেন নতুন করে ফিরে এসেছে, তবে এবার ভূমিকায় ছেলে আর্লিং হালান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, একটি হেড ও একটি বাঁ পায়ের শটে জোড়া গোল। নরওয়েকে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে দিয়েছে।
এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাত গোল করেছেন হালান্ড, যেখানে তিনি গোল্ডেন বুট দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের সমান অবস্থানে রয়েছেন।
নরওয়ের এই সাফল্যের পেছনে শুধু হালান্ডই নন, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা এবং আলেকজান্ডার সরলথও। তবে আক্রমণভাগে হালান্ডই দলের প্রধান ভরসা।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন মুহূর্তে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করেন হালান্ড। ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে নেতৃত্ব দেওয়ার দৃশ্যও নজর কাড়ে দর্শকদের, যা তার নেতৃত্বগুণের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপের অগ্রযাত্রা এখন নরওয়ের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা হাজির করেছে। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং সম্ভাব্য ফাইনালের পথে প্রতিটি ম্যাচেই বাড়বে চাপ। তবে হালান্ডের বর্তমান ফর্মে আশাবাদী পুরো নরওয়ে শিবির।
যদি শেষ পর্যন্ত নরওয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, তবে সেটি শুধু দেশের প্রথম শিরোপা নয় বরং হবে এক বাবার অপূর্ণ বিশ্বকাপ স্বপ্ন ছেলের হাতে সম্পূর্ণ হওয়ার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।