প্রতিবছর মহররম মাসে পবিত্র কাবাঘর ধোয়া হয়। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) মক্কা বিজয় করার পর থেকে কাবাঘর ধোয়ার এই রীতি শুরু হয়েছে। মক্কা বিজয়ের পর তিনি কাবাঘরকে মূর্তিমুক্ত করেন এবং তা ধুয়ে পরিষ্কার করেন। কাবাঘর বিশেষ পদ্ধতিতে ধোয়া হয় এবং তা ধুতে বিশেষ পানি ও উপকরণ ব্যবহার করা হয়।
যেভাবে ধোয়া হয়
কাবাঘরের ধৌত কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় কাবার অভ্যন্তরভাগের মেঝে ঝাড়ু দেওয়ার মাধ্যমে। প্রথমে ভেতরের অংশ ঝাড়ু দিয়ে ধুলো পরিষ্কার করা হয়। এরপর তামার পাত্রে গোলাপজল, গোলাপের সুগন্ধি ও উত্কৃষ্ট উদ মিশ্রিত জমজম পানি প্রস্তুত করা হয়। সেই পানিতে কাপড় ভিজিয়ে কাবাঘরের দেয়াল মোছা হয়। অতঃপর কাবার ভেতরের তিনটি স্তম্ভ এবং এর মেঝে ধোয়া হয়। ধোয়ার পর বিশেষ কাপড় দিয়ে সেগুলো শুকানো হয়। সবশেষে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে কাবার দেয়াল সুগন্ধি ছিটিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ করা হয়। সুগন্ধি হিসেবে চার তোলা উদ, কয়েক তোলা আম্বর ও গোলাপের সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়। এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন সৌদি আরবের বাদশাহ অথবা তাঁর প্রতিনিধি।
যেসব আসবাব ব্যবহার করা হয়
কাবাঘর ধুতে ও পরিষ্কার করতে ১০টি পাত্র ও উপকরণ ব্যবহার করা হয়। যেগুলোর বেশির ভাগ তামার তৈরি। তবে কয়েকটিতে রুপা ও কাঠের হাতল ব্যবহার করা হয়েছে। পাত্রগুলোতে ঐতিহ্যবাহী আরব ইসলামী নকশা ও কারুকাজ আছে।
১. জগ : বিশেষভাবে নকশা করা এই জগ ব্যবহার করে কাবাঘরের ভেতরে গোলাপজল ও উদ মেশানো জমজমের পানি ছিটানো হয়। গোলাপজল ও উদের সঙ্গে জমজমের পানি মেশানো হয় পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে।
২. কাপড় ভেজানোর পাত্র : গোলাপজল ও জমজমের পানিতে কাপড় ভিজিয়ে তা দিয়ে দেয়াল মোছা হয় যেন জমে থাকা ময়লাগুলো দূর হয়ে যায়। কাপড়গুলো ভেজানো হয় চারকোণা বিশেষ পাত্রে। পাত্রটির গায়ে আছে বিশেষ কারুকাজ।
৩. জমজমের পানি রাখার পাত্র : পরিচ্ছন্নতা কাজের সময় পর্যন্ত পরিমাণ জমজমের পানি ও গোলাপজল সরবারহ করার জন্য দুটি চ্যাপ্টা ধরনের চারকোণা বোতল ব্যবহার করা হয়।
৪. পানি মেশানোর পাত্র : গোল একটি বড় বল বা বাটিতে মেশানো হয় গোলাপজল, উদ ও জমজমের পানি।
৫. বিশেষ ধরনের কাপড় : কাবাঘরের দেয়াল পরিষ্কার করতে নরম ও সাদা কাপড় ব্যবহার করা হয়। আকারে এগুলো ছোট হাত রুমালের সমান।
৬. ধূপদানি : কাবাঘর ধোয়ার পর বিশেষ ধরনের সুগন্ধি কাঠের মিশ্রণ পুড়িয়ে ধোঁয়া দেওয়া হয়। আর এই কাজে তামার তৈরি একটি ধূপদানি ব্যবহার করা হয়।
৭. টিস্যু বক্স : পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাত পরিষ্কার করার জন্য এবং পরিষ্কারের কাজের সহায়ক হিসেবে একটি টিস্যু বক্সও রাখা হয়।
৮. খড়ের ঝাড়ু : কাবাঘরের দেয়াল ও মেঝে পরিষ্কারের জন্য রুপার হাতলযুক্ত চারটি খড়ের ঝাড়ু ব্যবহার করা হয়। এর হাতলে লেখা থাকে : এই সেই মহিমান্বিত কাবা, যার সুগন্ধি মনকে মোহিত করে। আর এর দেয়াল ধৌত হলে যেন তা নুরের জ্যোতিতে আরো দীপ্তিমান হয়ে ওঠে।
৯. মোছার যন্ত্র : কাবাঘরের উঁচু দেয়াল ও হাতের নাগালের বাইরে থাকা স্থান পরিষ্কার করার জন্য রুপার হাতলযুক্ত চারটি বেশিষ মোছার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
১০. শুকানোর কাপড় : কাবা শরীফের মেঝে মোছা ও ধোয়ার পর তা শুকানোর জন্য কাঠের হাতলযুক্ত চারটি বিশেষ কাপড় ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও উঁচু স্থান পরিষ্কার করার জন্য একটি অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রিক সিড়ি ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: সৌদি গেজেট ও সৌদি পিডিয়া
এ জাতীয় আরো খবর..