✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

১০০ মিটারে মানুষের রেকর্ড ছাড়াল রোবট, তুলনায় আপত্তি বিশেষজ্ঞদের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০১, | ১৪:০১:৫১ |

বেইজিংয়ের ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এ মানুষের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার দাবি তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ড সময় এবং হাইজাম্পে মানুষের প্রচলিত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর প্রযুক্তি ও ক্রীড়াজগতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এসব পারফরম্যান্সকে উসাইন বোল্ট বা অন্য মানব অ্যাথলেটদের বিশ্বরেকর্ডের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা বিভ্রান্তিকর। কারণ, রোবটের যান্ত্রিক সক্ষমতা আর একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য এক মানদণ্ডে বিচার করার সুযোগ নেই।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ১০০ মিটার মাত্র ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ডে পাড়ি দেওয়ার ঘটনাটি নিঃসন্দেহে প্রযুক্তিগতভাবে বিস্ময়কর। একই প্রতিযোগিতায় হাইজাম্পেও একটি হিউম্যানয়েড রোবট মানুষের বহু বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করেছে।

প্রথম দেখায় এসব অর্জন ক্রীড়াবিজ্ঞানের নতুন যুগের সূচনা বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো- একটি যন্ত্রের পারফরম্যান্সকে কি একজন রক্ত-মাংসের ক্রীড়াবিদের অর্জনের সঙ্গে একইভাবে তুলনা করা যায়?

একই সময়, কিন্তু এক নয় লড়াই

‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এ অ্যাথলেটিকস, ফুটবল, বক্সিং ও ভারোত্তোলনসহ নানা ইভেন্টে অংশ নিতে দুই হাজারের বেশি রোবট একত্র হয়েছিল। আগের আসরগুলোর তুলনায় এবার অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে, তেমনি বিভিন্ন খেলায় রোবটের সক্ষমতাতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। মানবদেহের আদলে তৈরি এসব রোবট দেখতে মানুষের মতো হলেও তাদের গতি, শক্তি ও ভারসাম্যের পেছনে কাজ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক ব্যবস্থা। শক্তিশালী মোটর, সেন্সর, সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়েই তৈরি হয় তাদের পারফরম্যান্স। তাই রোবট দ্রুত দৌড়ালেই সেটিকে উসাইন বোল্টের মানব বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ফেলা বলা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

খেলাধুলা শুধু দ্রুততম সময়ে দৌড় শেষ করা, সবচেয়ে উঁচুতে লাফ দেওয়া কিংবা সবচেয়ে ভারী ওজন তোলার নাম নয়। একজন ক্রীড়াবিদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ, চোটের ঝুঁকি, ব্যর্থতার ভয় এবং জয়ের আকাঙ্ক্ষা। একজন স্প্রিন্টার স্টার্ট লাইনে দাঁড়িয়ে যে নার্ভাসনেস অনুভব করেন, একজন আহত অ্যাথলেট পুনরায় মাঠে ফিরতে যে মানসিক লড়াই করেন কিংবা একজন খেলোয়াড় জয়ের পর যে আবেগ অনুভব করেন- রোবটের ক্ষেত্রে এসবের কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। এই মানবিক উপাদানগুলোই ক্রীড়াকে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, মানুষের সংগ্রাম ও আবেগের গল্পে পরিণত করে।

প্রযুক্তির সাফল্য, অ্যাথলেটিকসের নয়

এ কারণে রোবটের ১০০ মিটারের সময়কে সরাসরি বোল্টের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করার পরিবর্তে এটিকে রোবোটিক্স প্রযুক্তির অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবেই দেখা উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। হিউম্যানয়েড রোবটের এই অগ্রগতি অবশ্য খেলাধুলার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোচদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে, অনুশীলনকে আরও কার্যকর করতে পারে এবং মানুষের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে গবেষণার নতুন পথ খুলে দিতে পারে। তবে খেলাধুলার সঙ্গে প্রযুক্তির সম্পর্ক বরাবরই বিতর্কের বিষয়। ফুটবলে ভিডিও সহকারী রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তি তার একটি বড় উদাহরণ। প্রযুক্তি সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করলেও অনেকের প্রশ্ন- এতে কি খেলার স্বতঃস্ফূর্ততা ও রোমাঞ্চ কমে যাচ্ছে?

হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স সেই বিতর্ককে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, উন্নত এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ কারা পাবে? সব দেশ ও ক্লাব কি সমানভাবে এর সুবিধা নিতে পারবে, নাকি এটি কেবল ধনী দেশ ও সামর্থ্যবান প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? প্রযুক্তিগত বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ব্যয়বহুল রোবোটিক্স প্রযুক্তি যদি কেবল ধনী দেশগুলোর নাগালে থাকে, তাহলে খেলাধুলার বর্তমান বৈষম্য আরও গভীর হতে পারে।

রোবটও এখনও হোঁচট খাচ্ছে

এবারের প্রতিযোগিতা শুধু রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সের জন্যই আলোচিত হয়নি। অনেক রোবটকে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে, বিভিন্ন বাধায় ধাক্কা খেতে এবং প্রতিযোগিতার মাঝেই বিকল হয়ে যেতে দেখা গেছে। একটি রোবট নিরাপত্তা ব্যারিয়ারে ধাক্কা খেয়ে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটিকে চাদর দিয়ে ঢেকে সরিয়ে নিতে হয়। ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় আরেকটি রোবট গিয়ে আছড়ে পড়ে বিচারকদের টেবিলের ওপর।

কিছু দৃশ্য দর্শকদের হাসির খোরাক জোগালেও এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও সামনে এনেছে- হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স এখনও বিকাশমান প্রযুক্তি। এটি এখনো এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যেখানে রোবটকে সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য বা সর্বক্ষেত্রে প্রস্তুত প্রযুক্তি বলা যায়। তারপরও প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি স্পষ্ট। বিশেষ করে চীনে রোবোটিক্স ধীরে ধীরে শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলায় এর ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপাতত রোবট মানুষের জায়গা দখল করছে না। বরং তারা নতুন একটি প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে। তবে ভবিষ্যতে ক্রীড়া পরিচালনা সংস্থাগুলোকে কঠিন কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হতে পারে- খেলাধুলায় রোবটের জায়গা কোথায়, তাদের অংশগ্রহণ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং মানুষ ও যন্ত্রের প্রতিযোগিতার সীমারেখাই বা কোথায় টানা হবে?

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..