বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বা ইভির আধুনিক ও মিনিমালিস্টিক ডোর হ্যান্ডেল এখন প্রযুক্তি জগতের অন্যতম ট্রেন্ড হলেও এ নকশাই বড় বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে টেসলার জন্য।
হ্যান্ডেলজনিত নিরাপত্তা শঙ্কায় চীনে ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘কার রিকল’ বা গাড়ি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার আওতায় আসছে ৪০ লাখেরও বেশি বাহন।
বিবিসি লিখেছে, ঝুঁকিপূর্ণ নকশার কারণে ফেরত নেওয়া গাড়ির তালিকায় কেবল চীনেই তৈরি প্রায় ২৯.৮ লাখ টেসলা রয়েছে। পাশাপাশি এ তালিকায় যোগ হয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ‘এক্সপেং’, শাওমি ও গিলি’র তৈরি বিভিন্ন মডেলের ইভিও।
জরুরি পরিস্থিতিতে বা বড় কোনো দুর্ঘটনার পর লুকানো দরজার হ্যান্ডেলগুলো চটজলদি খুঁজে পাওয়া ও তা খুলে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি চীনে শাওমি ইভির দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর এ নকশা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওসব দুর্ঘটনায় গাড়ির পাওয়ার সিস্টেম পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় ভেতর থেকে দরজা খোলা সম্ভব হয়নি।
এ নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোতে দরজার ভেতরের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল বা স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি এসব গাড়িতে এমন সফটওয়্যার আপডেট মিলবে, যাতে সংঘর্ষের পরপরই গাড়ির জানালার কাচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে যায়।
বিবৃতিতে টেসলা বলেছে, তাদের মডেল ৩, ওয়া, এস ও এক্স সিরিজের কিছু গাড়ির দরজার হ্যান্ডেল ভেতরের ট্রিম বা রঙের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় সেগুলো ‘শনাক্ত করা ও ব্যবহার করা কঠিন’ হয়ে পড়েছিল।
“মারাত্মক দুর্ঘটনার মতো চরম পরিস্থিতিতে গাড়ির লো-ভোল্টেজ সিস্টেম অচল হয়ে গেলে তা যাত্রীদের দ্রুত বের হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি এবং বাইর থেকে উদ্ধারকাজ ব্যাহত করতে পারে, যা বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করবে।”
সমস্যা সমাধানে গাড়িগুলোতে সতর্কতামূলক লেবেল লাগানো ও সংঘর্ষের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানালার কাচ নিচে নামানোর জন্য সফটওয়্যার আপডেট আনার ঘোষণা দিয়েছে টেসলা।
যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য বাজারে একই ধরনের গাড়ি ফেরত নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা এসব ইভি নির্মাতা কোম্পানির রয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি টেসলা, এক্সপেং, শাওমি ও গিলি।
অটোমোটিভ গবেষণা কোম্পানি ‘সিনো অটো ইনসাইটস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তু লে বলেছেন, ২০১৪ সালে টেসলার মডেল এস সেডানের চমৎকার চেহারা দেখে চীনা বিভিন্ন ব্র্যান্ড দ্রুতই তা অনুকরণ করতে শুরু করে।
এরপর থেকেই অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে এ গোপন হ্যান্ডেলের ব্যবহার বেড়ে যায়। তবে এ পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তু লে বলেছেন, স্টিকার লাগানো বা সফটওয়্যার আপডেট দেওয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়, বরং এমনটা ‘অস্থায়ী মলম’ বা সাময়িক ব্যবস্থার মতো।
ক্রমাগত সুরক্ষা ঝুঁকির মুখে ফেব্রুয়ারিতে লুকানো দরজার হ্যান্ডেলের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানায় চীনা কর্তৃপক্ষ।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ নতুন নিয়ম অনুসারে, গাড়ির দরজার ভেতরে ও বাইরে উভয় পাশেই অন্তত একটি মেকানিকাল বা হাতে চালিত লক-ব্যবস্থা না থাকলে চীনে সেই গাড়ি বিক্রি করা যাবে না।
প্রযুক্তিগত গোলযোগের অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রেও টেসলার ডোর হ্যান্ডেল হঠাৎ অচল হয়ে পড়ায় গাড়ির ভেতরে শিশুরা আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে তদন্ত করেছে দেশটির নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এসব দুর্ঘটনার পর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেইফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ সব গাড়ি নির্মাতার জন্য নতুন এক আনুষ্ঠানিক সুরক্ষা মানদণ্ড তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..